Chorabali Logo

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী কারা

হুতিদের আনুষ্ঠানিক নাম আনসারুল্লাহ হলেও স্থানীয়ভাবে তাদেরকে হুতি বলে ডাকা হয়। হুতি বিদ্রোহী কারা এ প্রশ্নের উত্তর অনেকেই জানতে চান। হুতিরা সাধারণত শিয়া মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে থাকে। ধারণা করা হয় হুতিরা তাদের ৯০ ভাগ সামরিক এবং অর্থনৈতিক সাহায্য ইরানের কাছ থেকে পেয়ে থাকে।

কারণ ইরানকেও শিয়া প্রধান দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। হুতিরা সর্বপ্রথম নজরে আসে ২০১৪ সালের শুরুর দিকে। কারণ ঐ বছর তারা ইয়েমেনের সাআদা রাজ্য পুরোপুরি নিজেদের দখলে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে সৌদি সরকারি জোটের সঙ্গে হুতিদের বিভিন্ন সংঘাত পুরো বিশ্বের নজরে আসে।

গত কয়েক বছরে তারা সৌদি আরবে বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়েছে। এবং ২০১৮ সালের সর্বশেষ আরব আমিরাতে হুতিদের আক্রমণ ছিল ভয়াবহ। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা হুতি বিদ্রোহী কারা এ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

হুতিদের সামরিক শক্তি

গত ৮ বছরে ইয়েমেনের সঙ্গে সংঘর্ষে হুতিরা তাদের নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করেছে। ইয়েমেন ছাড়াও হামাস এবং ইসরাইলের সঙ্গে বিভিন্ন রকম ঝামেলায় জড়িয়েছে হুতি সংগঠন। 

ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি সহায়তা করলেও কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে হুতি জনগোষ্ঠী। হুতিদের সা’দাহ যুদ্ধ, বা সা’দাহ একটি সামরিক বিদ্রোহ ছিল। তবে এসব আন্দোলনের সুন্নিরা যোগদান করেছিল। এই যুদ্ধ পরবর্তীতে গৃহযুদ্ধে রূপান্তরিত হয়েছিল।

 হুতিদের রয়েছে নিজস্ব স্থল বাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনী। শিল্পোন্নত জি সেভেন এর আলোচনায় রয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। জি সেভেন এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা হুতিদের কাছে আটককৃত মালবাহী জাহাজ এবং ক্রুদের মুক্তির জন্য দাবি জানিয়েছে। তাই বলা যায় হুতিরা এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে।

হুতি যোদ্ধা কতজন

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা তাদের শিশু সৈন্যদের দিয়ে সাত বছর একটানা গৃহযুদ্ধে লড়াই করিয়েছেন। তবে বর্তমানে তারা তাদের শিশু সনদের মুক্তি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ২০০০ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত হুতিতের যোদ্ধা সংখ্যা ছিল একেবারেই কম। এ সময় তাদের দলে ১০০০ থেকে ৩ হাজার সৈন্যের সদস্য পদ ছিল। তবে ২০০৯ সালে এই সদস্য পদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়ে হয় প্রায় ১০ হাজার জন। তবে ২০১৪ সালে ইয়েমেনের বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয় যে তাদের যোদ্ধা সংঘ প্রায় ১ লক্ষ জন।

কারা এই হুতি?

ইয়েমেনের একটি বড় সম্পদের নাম হল হুতি। তারা ইয়েমেনের রাজধানীর কয়েকটি অংশে বসবাস করে থাকে। রাজধানীর একটি অংশ সানা এবং উত্তর অঞ্চলের কিছু অংশে এরা বসবাস করে থাকে। সৌদি আরবের দক্ষিণ অঞ্চলীয় একটি জেলার নাম নাজরান। এখানেও পতিদের একটি বৃহৎ সংখ্যা বসবাস করে থাকে।

 ইয়েমেনে রয়েছে প্রায় শতভাগ মুসল্লী। এদের মধ্যে ৭০ ভাগ সুন্নি এবং বাকি ৩০ ভাগ শিয়া সম্প্রদায়ের হয়ে থাকে। এই ৩০ ভাগ শিয়া সম্প্রদায়কে সাধারণত হুতি সম্প্রদায় বলা হয়ে থাকে। হিরনের শিয়া সরকার কর্তৃক এরা পরিচালিত হয়ে থাকে। তাছাড়া এরা লেবাননের হিজবুল্লার একটি সংগঠন হিসেবে বিবেচিত হয়।

শেষ কথা

গত ১৯শে নভেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম ছিল হুতি জনগোষ্ঠী। হুতি বিদ্রোহী কারা এই প্রশ্নের এক কথায় জবাব দিতে গেলে বলতে হয় ইয়েমেনের সরকারের বিরুদ্ধে এটি সশস্ত্র সংগঠনের নাম হুতি।

এরা ইয়েমেনের সরকার কর্তৃক এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ থেকে পূর্ণ সমর্থন পেয়ে চলেছে। ইয়েমেনের রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকা এখন তাদের দখলে।

বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১) হুথি কি কোন দেশ?

উত্তর: হুথি একটি সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন।

২)হুতিদের সাথে কারা যুদ্ধ করছে?

উত্তর: হুতিতের সাথে সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি শহর যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।

৩)ইয়েমেনের কত শতাংশ হুতি বিদ্রোহী?

উত্তর: প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top