Chorabali Logo

ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও সঠিক পরামর্শ

আমাদের শরীরের ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ভালভাবে জানা খুব জরুরি। সাধারণত খালি পেটে আগের রাতের পানিতে ভেজানো চিয়া সিড খাওয়ার পরামর্শ দেয় বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা। এছাড়াও আপনি দিনের যে কোন সময় ২০ থেকে ৩০ মিনিট কুসুম পানিতে ভিজিয়ে রেখে খেতে পারেন। চিয়া আপনার শরীরের অনেক উপকার করবে। হজম শক্তি বাড়াবে, গ্যাসের সমস্যা দূর করবে, পানি শূন্যতা দূর করবে ইত্যাদি।

স্যালিভা হিসপানিকা একটি পুদিনাগোত্রীয় ফুল গাছ। এই ফুল গাছ থেকে প্রাপ্ত বীজকেই আমরা “চিয়া সিড” বলি। স্বাস্থ্য সচেতন কারীদের কাছে এই বীজ একটি “সুপারফুড” হিসেবে বিবেচিত হয়। ওজন কমানোর ক্ষেত্রে চিয়া সিড অনেকেই ব্যবহার করে থাকেন। 

আবার যারা ডায়েট করেন তাদের কাছেও এই বীজটি জনপ্রিয়। তবে ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম রয়েছে। সাধারণত সকালের খাবারে এক চা চামচ চিয়া সিড মিশিয়ে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। আপনি চাইলে ওটমিল, কনফ্লেক্স, সালাদ এবং ময়দা বা আটার তৈরি খাবারে চিয়া সিড মিশিয়ে খাওয়া যায়।

আপনি চাইলে আপনার পছন্দের পানীয় এর সঙ্গে চিয়া সিড মিশিয়ে খেতে পারেন। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব:

চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

চিয়া সিড খাওয়ার জন্য রান্না করার প্রয়োজন হয় না। সাধারণত এই বীজটি পানিতে ভিজিয়েই খাওয়া যায়। কিছু খাবার সাথে খুব সহজেই চিয়া সিড মিশিয়ে খাওয়া যায়। নিচে আমরা চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করব।

 ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম: 

  • কুসুম গরম পানিতে দশ মিনিট চিয়া সিড ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে অথবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই পানীয় টি পান করুন। এটি খুব দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

  • বিভিন্ন রকম ফল নিয়ে একত্রে একটি সালাদ তৈরি করে এর সঙ্গে এক চা চামচ চিয়া সিড মিশিয়ে খেতে হবে। কয়েকদিনেই ওজন নিয়ন্ত্রণে আসবে।

  • ডাবের পানির সঙ্গে ২ চা চামচ চিয়া সিড মিশিয়ে খেলে অল্প দিনেই ওজন নিয়ন্ত্রনে আসে।

  • ওটস, পুডিং এবং সব ধরনের স্মুথি জাতীয় খাবারের সঙ্গে চিয়া সিড মিশিয়ে খাওয়া যায়।

ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় দুধের থেকেও পাঁচ গুণ বেশি পুষ্টি রয়েছে চিয়া সিডে। এর মধ্যে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদান গুলোর নাম হল: ক্যালসিয়াম, ভিটামিন “সি”, আয়রন, ওমেগা-৩, পটাশিয়াম, প্রোটিন ইত্যাদি।

আমাদের শরীরে এই সমস্ত পুষ্টির যোগান দিতে আমাদের বিভিন্ন রকমের খাবার খেতে হয়। কিন্তু এক চা চামচ চিয়া সিড এই সব ধরনের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম। চিয়া সিডের গুনাবলির শেষ নেই। চলুন এক নজরে দেখে নেই চিয়া সিড এর উপকারিতা গুলো কি কি?

  • সপ্তাহে ৩-৪ দিন নিয়মিত সেবনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং হার্ট সচল রাখতে সাহায্য করে।

  • দ্রুত ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

  • রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে।

  • হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

  • এসিডিটির সমস্যা দূর করে।

  • হাটু এবং জয়েন্টের ব্যথা কমানোর পাশাপাশি রাতে ভালো ঘুম নিশ্চিত করে।

  • ত্বক, চুল, নখ সুন্দর রাখতে সাহায্য করে।

বাচ্চাদের চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম

বাচ্চাদের চিয়া সিড খাওয়ানোর ক্ষেত্রে কিছুটা সচেতনতা অবলম্বন করা জরুরি। কারণ এটি বাচ্চাদের গলায় আটকে যেতে পারে। এক্ষেত্রে বাচ্চাদের বিভিন্ন খাবার যেমন: খিচুড়ি এর সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন। 

তবে যেসব বাচ্চাদের বয়স এক বছরের কম তাদের চিয়া সিড না খাওয়ানোই ভালো। কারন এত ছোট বাচ্চারা চিয়া সিড হজম করতে পারবে না। ১-৫ বছরের বাচ্চাদের বিভিন্ন খাবারে চিয়া সিড ব্লেন্ড করে মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন।

শেষ কথা

ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন অবশ্যই খেতে হবে। এক বছরের উপরের বাচ্চা থেকে শুরু করে সকল বয়সী মানুষের জন্য এটি একটি উপকারী খাবার।

 প্রতিদিনের খাবার তালিকায় চিয়া সিড রাখলে প্রোটিনের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ হয়। তাছাড়া দেহের ক্ষতিকর পদার্থ বের করতে চিয়া সিড খুবই কার্যকর।

বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১) চিয়া সিড খেলে কি পেটের চর্বি কমে?

উত্তর:  চিয়া সিড পেটের চর্বি কমানোর পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণে আনে।

২)চিয়া সিড কত বছর বয়স থেকে খাওয়া যায়?

উত্তর: এক বছর বয়সী বাচ্চাদের থেকে শুরু করে যে কোন বয়সের মানুষ এটা খেতে পারে।

৩) চিয়া সিড এর কাজ কি?

উত্তর: ব্লাড সুগার, ডায়াবেটিস এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top