Chorabali Logo
স্বাস্থ্য

গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চা কালো হয়

গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন কারণে বাচ্চার গায়ের রং ফর্সা অথবা কালো হতে পারে। এগুলো নির্ভর করে পরিবেশের উপর, আবহাওয়ার উপর, বাবা মায়ের খাদ্যাভ্যাসের উপর, এবং বাবা মায়ের জিনগত বৈশিষ্ট্যও এক্ষেত্রে অনেকাংশে দায়ী। গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চা কালো হয় এটা নিয়ে সমাজে অনেক ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে।

 অনেকের মতে কালো ফল বা কালো রঙের মাছ খেলে বাচ্চার গায়ের রং কালো হয়। কিন্তু এগুলো একেবারেই ভুল ধারণা এবং এর কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে বাচ্চার গায়ের রং কালো হওয়ার সবথেকে বড় কারণ হলো বাচ্চার শরীরে অবস্থিত মেলানিন নামক পদার্থ। 

এই পদার্থটি বাচ্চার ত্বকের কোষ গুলো গঠন করতে সাহায্য করে। তবে এই পদার্থটি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় বাবা-মায়ের জিনের দ্বারা। তাই বাচ্চার শরীরে যত বেশি মেলানিন তৈরি হবে বাচ্চার গায়ের রং ততই কালো হবে। এছাড়াও এই পদার্থের জন্য বাচ্চার চুল, চোখ ইত্যাদি অংশও কালো হয়ে থাকে।

তবে নির্দিষ্ট কোন খাদ্য বস্তুর জন্য বাচ্চার গায়ের রং কালো হয় না। একজন গর্ভবতী মা যখন ছয় থেকে আট সপ্তাহে প্রবেশ করেন তখনই নির্ধারণ হয়ে যায় বাচ্চার গায়ের রং কি হবে। তাই পরবর্তীতে বাচ্চার মায়ের সম্পূর্ণ গর্ভাবস্থায় জুড়ে খাবার-দাবারে বাচ্চার গায়ের রং পরিবর্তন হওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না। তবে কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খেলে বাচ্চার গায়ের রং কিছুটা সাদা হতে পারে। সেগুলো নিয়ে আমরা পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনা করব।

গর্ভাবস্থায় বাচ্চার রং কিসের উপর নির্ভর করে

আমরা পূর্বেই আলোচনা করেছি বাঁচার গায়ের রং কেমন হবে তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে বাবা-মায়ের জিনগত ফ্যাক্টর এর উপর। তবে এক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায় বাবা-মা দুজনে ফর্সা হলেও শিশুর গায়ের রং কালো হয়। তাই এটি অনেক অংশ নির্ভর করে সৃষ্টিকর্তার উপর। 

শিশু কোন পরিবেশে গর্ভস্থ মায়ের পেটে বেড়ে উঠছে এটাও বাচ্চার গায়ের রং তৈরি হওয়ার জন্য অনেকাংশে দেয়। শীতল দেশগুলোতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাচ্চাদের গায়ের রং ফর্সা হতে দেখা যায়। এগুলো সাধারণত পরিবেশের উপর নির্ভর করে। তবে অনেকেই বাচ্চার গায়ের রং ফর্সা হওয়ার জন্য কিছু খাবার খেয়ে থাকে। সেগুলো হলো: 

  • জাফরান দুধ,
  • কলা,
  • ডিমের সাদা অংশ,
  • মাখন,
  • চেরি জাতীয় ফল,
  • টমেটো,
  • ডাব,
  • নারিকেল এবং
  • মাখন।

আরও>>

উপরে আমরা যেসব খাবার নিয়ে আলোচনা করলাম সেগুলো নিঃসন্দেহে প্রত্যেকটাই পুষ্টিকর খাবার। কিন্তু অনেকে কুসংস্কার মেনে নিয়ে অথবা নিজ মনে ধারণা করে বাচ্চার গায়ের রং ফর্সা করার জন্য এগুলো খেয়ে থাকেন। কিন্তু এগুলোর কোন বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রমাণ নেই। যারা জানতে চেয়েছিলেন গর্ভাবস্থায় বাচ্চার রং কিসের উপর নির্ভর করে আশা করি তারা তাদের উত্তর পেয়েছেন। 

বাচ্চা কালো হওয়ার কারণ

বিজ্ঞানীদের মতে, শিশুর গায়ের রং কালো বাম ফর্সা হওয়ার পিছনে ৫০ ভাগ দায়ী মায়ের ডিএনএ এবং বাকি ৫০ ভাগ বাবার। তবে শিশু শরীরে যে জিনগত বৈশিষ্ট্য তৈরি হয় তার প্রায় সাত শতাংশ তার বাবার ডিএনএ অনুযায়ী থাকে। আসলে বংশগতির কারণে বাচ্চার গায়ের রং নির্ধারণ হয়। বাচ্চার চুল, নখ, চেহারার ধরন ইত্যাদি সবকিছুই বংশ গতির কারণে নির্ধারণ হয়ে থাকে।

শেষ কথা

গর্ভাবস্থায় কি খেলে বাচ্চা কালো হয় এই প্রশ্নের কোন বিজ্ঞানভিত্তিক উত্তর দেওয়া যায় না। কারণ বাচ্চার গায়ের রং কেমন হবে একমাত্র নির্ধারণ করতে পারেন সৃষ্টিকর্তা। বাচ্চার গায়ের রং নিয়ে চিন্তা না করে একটি সুস্থ শিশু পৃথিবীতে আনার জন্য প্রত্যেকটি মায়ের পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত।

বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী 

১)জন্মের পর বাচ্চা কালো হয় কেন?

উত্তর: মেলানিনের উৎপাদন অধিক মাত্রায় বৃদ্ধির ফলে বাচ্চার গায়ের রং কালো হতে থাকে।

২) শিশুর মুখ ফর্সা ও শরীর কালো হয় কেন?

উত্তর: সদ্য জন্ম নেওয়ার শিশুর ক্ষেত্রে এরূপ হওয়া স্বাভাবিক। তবে শিশুর বয়স ছয় মাসের মধ্যে এটি ঠিক হয়ে যায়।

৩) শিশুর ত্বকের রং নির্ধারণ করে কোনটি?

উত্তর: জেনেটিক্স এবং মেলানিন শিশুর ত্বকের রং নির্ধারণ করে।

Mahedi

পেশায় একজন চাকরিজীবী আমি। লেখালিখির শখ অনেক আগে থেকেই। এই শখকে পুজি করে মানুষের মাঝে জ্ঞান বিতরণের সামান্য চেষ্টা আমার। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালিখি করতে বেশি পছন্দ করি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close