Chorabali Logo

গরুর দুধের উপকারিতা ও অপকারিতা

গরুর দুধের উপকারিতা জেনে অনেকেই অবাক হবেন। কারণ শরীরের প্রায় ৮০ ভাগ রোগ প্রতিরোধে গরুর দুধ সাহায্য করে থাকে। কিন্তু গরুর দুধের কিছু অপকারিতাও রয়েছে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আপনাদের গরুর দুধের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে ধারণা দিব।

গরুর দুধ মানসিক চাপ দূর করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ব্লাড প্রেসার এবং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য দুধ খুবই উপকার। চুল এবং ত্বক উভয়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দুধ খুবই কার্যকরী। ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণ করে দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। স্ট্রেস দূর করে ফলে রাতে ঘুম ভালো হয়। তাছাড়া গরুর দুধের আরও বিভিন্ন রকম উপকারিতা রয়েছে। নিজে আমরা সেগুলো সম্পর্কে আলোচনা করব:

গরুর দুধের পুষ্টি উপাদান

গরুর দুধের পুষ্টি উপাদান চোখে পড়ার মত। এতে বিদ্যমান রয়েছে কপার, জিংক, ম্যাংগানিজ, আয়রন,ক্রোমিয়াম,সেলিনিয়াম। তাছাড়া গরুর দুধে যেসব শক্তিশালী উপাদান রয়েছে সেগুলো হৃদরোগে ঝুঁকি শতভাগ কমাতে সাহায্য করে। চলুন এক নজরে দেখে নেই গরুর দুধের পুষ্টি উপাদান কি কি?

পুষ্টি উপাদানের নাম পরিমাণ
পানি ৮৬.৫%,
ফ্যাট ৪.৫%
প্রোটিন ৩.৫%
ল্যাকটোজ ৪.৮%
ভিটামিন ও খনিজ লবণ ৭%

গরুর দুধে ভিটামিন বি-৬, বি-১২, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ডি এবং কে, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড,নায়াসিন ইত্যাদি উপাদান দ্রবীভূত থাকে। হলে হয়তো বুঝতেই পারছেন এক গ্লাস দুধ থেকে পুষ্টি পাওয়া যায়!

রাতে দুধ খাওয়ার উপকারিতা

রাতে দুধ পান করার মাধ্যমে শরীর ক্যালসিয়াম শোষণ করার জন্য অনেক সময় পায়। তাই দুধে সর্বোচ্চ উপকারিতা রাতে খাওয়ার মাধ্যমেই পাওয়া যায়। এবং রাতে ভালো ঘুমাতে চাইলে এক গ্লাস দুধ পান করে ঘুমানো উচিত। তবে রাতে গরম দুধ না খেয়ে উষ্ণ গরম দুধ খাওয়া ভালো। এতে করে পেটে গ্যাস্ট্রিকের পরিমাণ কম হয়।

এ সময় দুধ খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি হাড়ের ক্ষয় রোধ হয়ে থাকে। কিন্তু এগুলো শুধুমাত্র বড়দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কোনভাবেই রাতে দুধ খাওয়ানো যাবে না। এতে করে বদহজম, অম্বলের সমস্যা এবং পেটে ব্যথা হতে পারে। তবে যাদের হজমের অসুবিধা রয়েছে রাতে দুধ খাবেন না। এতে করে হজমের সমস্যা, পেটে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, অম্বলের সমস্যা, পেটে চিনচিন ব্যথা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।

খাঁটি গরুর দুধের উপকারিতা

এক নজরে দেখে নেই খাঁটি গরুর দুধের উপকারিতা গুলো কি কি?

  • শরীরের দুর্বলতা কাটিয়ে শরীরকে সবল রক্তের সাহায্য করে।

 

  • দিনের বেলায় দুধ খেলে শরীরের ওজন হ্রাস পায়। কিন্তু রাতে দুধ খেলে এটি শরীর সুস্থ রাখে কিন্তু ওজন কমাতে সাহায্য করে না।

 

  • মানসিক চাপ পুরোপুরি দূর করতে খাঁটি গরুর দুধ পান করুন।

 

  • হার্টের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হার্ট সুস্থ রাখে।

 

  • ডায়াবেটিসের মাত্রা কমিয়ে ডায়াবেটিস রোগীদের সুস্থ রাখে।

 

  • এসিডিটির বিরুদ্ধে কাজ করে।

 

  • পেটের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলায় কাজ করে,

 

  • ক্যালসিয়ামের অভাব দূর করে এবং ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে।

 

  • পাকস্থলী পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে ফলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।

 

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

দুধ খাওয়ার অপকারিতা

দুধের উপকারিতা তার পাশাপাশি কিছু কিছু অপকারিতা রয়েছে। চলুন সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক:

 

  • কিডনি রোগীদের জন্য দুধ খাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে যাদের কিডনিতে পাথর রয়েছে তারা রাতে দুধ খেতে পারবেন না।

 

  • যাদের দুধে এলার্জি রয়েছে তাদের দুধ এড়িয়ে চলা উচিত।

 

  • গ্যাস্ট্রিক আলসারের ভুগছেন এমন রোগীদের ক্ষেত্রে দুধ এড়িয়ে চলতে হবে।

 

  • যাদের পেটে খুব রিসেন্ট অপারেশন হয়েছে তারা দুধ এড়িয়ে চলাই ভালো।

 

মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধির জন্য খাবার

মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধির জন্য ঘরের তৈরি খাবারের কোন বিকল্প নেই। বুকের দুধ বৃদ্ধি করার জন্য অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি ডায়েট মেনে চলতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার প্রতিবেলার ডায়েটে তাজা ফলমূল এবং শাক সবজি রাখার চেষ্টা করবেন।

 

প্রতিবেলায় এক টুকরো মাছ অথবা মাংস বুকের দুধ বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। তাছাড়া মাংসের তৈরি স্যুপ, রসুন, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ সব রকমের মাছ, ডিম ইত্যাদি বুকের দুধ তৈরি হতে সাহায্য করে। তাই স্তন্যদানকারী যে কোন নারী এইসব খাবারের মাধ্যমে বুকের দুধ বৃদ্ধি করতে পারেন।

উপসংহার

দুধের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমরা কম বেশি সবাই জানি। ফলে দুধকে একটু আদর্শ খাবার হিসেবে আমরা যেকোনো সময়ই পান করে থাকি। কিন্তু দুধ পান করার আগে অবশ্যই কোন সময় পান করা ভালো তা জেনে নেওয়া উচিত। 

এবং কোন ধরনের শারীরিক অসুবিধায় দুধ খাওয়া যাবেনা জেনে রাখা উচিত। যারা দুধের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছিলাম আশা করি তারা উপকৃত হয়েছেন।

বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১)খালি পেটে কি দুধ খাওয়া উচিত?

উত্তর: খালি পেটে দুধ না খাওয়াই ভালো।

 

২)কোন দুধ খাওয়া ভালো?

উত্তর: নন ফ্যাট দুধ খাওয়া ভালো।

 

৩)দিনে কতটুকু দুধ খাওয়া উচিত?

উত্তর: প্রতিদিন শত ৭৩২ মিলি এর বেশি দুধ খাওয়া উচিত নয়।

 

৪) ১ বছরের বাচ্চার কতটুকু দুধ খাওয়া উচিত?

উত্তর: এক বছরের বাচ্চার 480-720 মিলিলিটার এর বেশি দুধ খাওয়া উচিত নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top