Chorabali Logo

গর্ভাবস্থায় চিড়া খেলে কি হয়? ৮ টি উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় চিড়া খেলে মা এবং শিশুর জন্য বিভিন্ন রকমের উপকারিতা বয়ে আনতে পারে। চিড়া একটি সহজলভ্য ও সহজপাচ্য খাদ্য, যা প্রচুর পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ। এখানে গর্ভাবস্থায় চিড়া খাওয়ার কয়েকটি উপকারিতা উল্লেখ করা হলো। 

অ্যাপোলো হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী বলেন – গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে খেয়ে ওজন বাড়ানো থেকে পুষ্টিকর খাবার কম পরিমাণে হলেও খেতে হবে। অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন গর্ভাবস্থায় চিড়া খেলে কি হয়? তাদের জন্য সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের আইটিকেল। 

আমরা সবাই জানি চিড়া একটি পুষ্টিকর খাবার। তবে চিড়াতে রয়েছে ৭০ ভাগ কার্বোহাইড্রেট এবং ৩০ ভাগ চর্বি। আমরা সবাই জানি গর্ভবতী মহিলাদের ওজন ধীরে ধীরে অনিয়ন্ত্রিত হতে থাকে। 

চিড়ার পুষ্টি উপাদান 

চিড়া, যা সাধারণত ফ্ল্যাটেন্ড রাইস বা বিটেন রাইস নামে পরিচিত, পুষ্টি উপাদানের একটি ভাল উৎস। ১০০ গ্রাম চিড়ায় সাধারণত নিম্নলিখিত পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়:

  1. ক্যালোরি: প্রায় ৩৫০ ক্যালোরি
  2. প্রোটিন: প্রায় ৭.৫ গ্রাম
  3. কার্বোহাইড্রেট: প্রায় ৭৮ গ্রাম
    • শর্করা: ০.৬ গ্রাম
  4. ফ্যাট: প্রায় ১ গ্রাম
    • স্যাচুরেটেড ফ্যাট: ০.২ গ্রাম
    • মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট: ০.২ গ্রাম
    • পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট: ০.৪ গ্রাম
  5. ডায়েটারি ফাইবার: প্রায় ১.৬ গ্রাম

ভিটামিন এবং মিনারেল:

  1. ভিটামিন বি১ (থিয়ামিন): প্রায় ০.০৭ মিলিগ্রাম
  2. ভিটামিন বি২ (রাইবোফ্লাভিন): প্রায় ০.০৫ মিলিগ্রাম
  3. ভিটামিন বি৩ (নায়াসিন): প্রায় ১.৬ মিলিগ্রাম
  4. ফোলেট (ভিটামিন বি৯): প্রায় ৪ পিকোগ্রাম
  5. আয়রন: প্রায় ২০ মিলিগ্রাম
  6. ক্যালসিয়াম: প্রায় ১০ মিলিগ্রাম
  7. পটাশিয়াম: প্রায় ৭০ মিলিগ্রাম
  8. ফসফরাস: প্রায় ৯৪ মিলিগ্রাম
  9. ম্যাগনেসিয়াম: প্রায় ৩২ মিলিগ্রাম
  10. সোডিয়াম: প্রায় ২৪ মিলিগ্রাম

উপরের সকল উপাদনাই গর্ভাবস্থায় চিড়া খেলে একজন মা ও শিশুর অনেক উপকারে আসে। চিড়া একটি ভালো কার্বোহাইড্রেটের উৎস এবং এটি প্রচুর পরিমাণে শক্তি প্রদান করে। এছাড়া এতে কিছু প্রোটিন এবং অল্প পরিমাণে ফ্যাট থাকে। ভিটামিন এবং মিনারেলগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো আয়রন এবং ফোলেট, যা রক্তের জন্য উপকারী। চিড়া সহজেই হজম হয় এবং এটি হালকা খাবার হিসেবে অনেক জনপ্রিয়। এটি ভেজে বা রান্না করে ফল, দুধ, দই, অথবা সবজির সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়, যা এর পুষ্টিগুণ আরও বাড়িয়ে তোলে। 

অধিক পরিমাণে গর্ভাবস্থায় চিড়া খেলে গর্ভবতী মায়ের ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকে। তাছাড়া খালি পেটে গর্ভবতী মা চাইলে এক মুঠো করে চিড়া প্রতিদিন খেতে পারে। এতে করে হজম শক্তি উন্নত হবে। 

তবে শুকনো চিড়া খাওয়ার থেকে গর্ভবতী মা যদি কোন তরল এর সঙ্গে মিশিয়ে চিড়া খান তবে এটি তার শরীরের জন্য ভালো। দুধ, কলা, নারিকেল ইত্যাদি উপাদান চিড়ার সঙ্গে মিশিয়ে খেলে গর্ভবতী মায়ের অনেক পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়। চলুন এক নজরে দেখে নেই গর্ভাবস্থায় চিড়া খেলে কি হয়?

গর্ভাবস্থায় চিড়া খেলে যা যা হয়

  • গর্ভাবস্থায় চিড়া খেলে হজম শক্তি উন্নত হয়,
  • চিড়ায় বিদ্যমান ফাইবার এবং আয়রন গর্ভস্থ শিশুর জন্য নিরাপদ,
  • সকালে খালি পেটে চিড়া খেলে গর্ভবতী নারীর ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে,
  • চিড়া গর্ভবতী নারীদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে,
  • চিড়া গর্ভবতী নারীদের ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে,
  • অন্ত্রের প্রদাহ দূর করে।

হজম শক্তি উন্নত হয়:

গর্ভবতী নারীরা হজমের সমস্যায় ভুগে থাকেন। চিড়া সহজেই হজম হয় এবং এটি হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় হজমের সমস্যা খুব সাধারণ, তাই চিড়া খেলে এ সমস্যা কমানো সম্ভব। এছাড়াও পেটে গ্যাস ও কোষ্ঠকাঠিন্য গর্ভবতী নারীদের নিত্যদিনের সমস্যা। নিয়মিত চিড়া খেলে গর্ভবতী নারীদের হজম শক্তি উন্নত হয়। এবং পেটের যাবতীয় সমস্যা দূর হয়। চিড়া সহজেই হজম হয় এবং এটি হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় হজমের সমস্যা খুব সাধারণ, তাই চিড়া খেলে এ সমস্যা কমানো সম্ভব।

বমি বমি ভাব কমায়

অনেক গর্ভবতী মহিলা প্রথম ত্রৈমাসিকে মর্নিং সিকনেসের (বমি বমি ভাব) সমস্যায় ভোগেন। চিড়া সহজপাচ্য হওয়ার কারণে এটি এই ধরনের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

ফাইবার এবং আয়রন গর্ভস্থ শিশুর জন্য নিরাপদ: 

গর্ভস্থ শিশুর ফাইবার এবং আয়রন এই দুটো খুব প্রয়োজন। তাছাড়া চিড়ায় বিদ্যমান ফাইবার গর্ভবতী মহিলাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। তাই গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় ফাইবার ও আয়রন পাওয়ার জন্য নিয়মিত চিড়া খাওয়া উচিত।

চিড়া খেলে গর্ভবতী নারীর ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে

চিড়াতে চর্বির পরিমাণ খুবই কম। এটি পরিমিত পরিমাণে খেলে গর্ভবতী নারীর ওজন নিয়ন্ত্রিত থাকে। সেই সাথে গর্ভবতী নারীর বারবার খাবার প্রবণতা ও কমে আসে।

চিড়া গর্ভবতী নারীদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে 

অনেকেই গর্ভবতী হওয়ার আগে থেকেই ডায়াবেটিসের সমস্যায় ভুগে থাকেন। আবার অনেকে গর্ভবতী হওয়ার পরে ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত হয়ে থাকেন। গর্ভাবস্থার আগে এবং গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস এ দুটোই গর্ভস্থ শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। 

যেসব গর্ভবতী নারী ডায়াবেটিসের ভুগছেন তারা নিয়মিত সকালে এক মুঠো শুকনো চিড়া খাওয়ার অভ্যাস করে তুলুন। এতে করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রিত থাকার পাশাপাশি পেটের অন্যান্য সমস্যা দূর হবে।

চিড়া গর্ভবতী নারীদের ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে 

কোষ্ঠকাঠিন্যের পাশাপাশি ডায়রিয়া ও গর্ভবতী নারীদের একটি জটিল সমস্যার নাম। খাবারে একটু ব্যতিক্রম হলে গর্ভবতী নারীদের ডায়রিয়া পরিলক্ষিত হয়। চিড়ায় রয়েছে আলসারেটিভ কোলাইটিসিস নামক উপাদান। এই উপাদানটি গর্ভবতী নারীদের ডায়রিয়া দূর করতে সাহায্য করে।

অন্ত্রের প্রদাহ দূর করে

গর্ভবতী নারীদের পেটে ব্যথা, পেট ফাঁপা এবং পেটে গ্যাস হওয়া নিত্যদিনের সমস্যা। এই সমস্যা থেকে মোকাবেলার জন্য গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত চিড়া খাওয়া উচিত। এতে করে অন্ত্রের প্রদাহ সম্পূর্ণরূপে দূর হবে এবং পেটের সমস্যা কমে আসবে।

অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ

চিড়ায় আয়রন থাকে, যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়িয়ে অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ কথা 

গর্ভাবস্থায় যে কোন খাদ্যগ্রহণের আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত। যদিও চিড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিরাপদ, তবুও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত অবস্থার কারণে কিছু মানুষকে এটি এড়িয়ে চলতে হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় চিড়া খেলে কি হয় এর উত্তর আমরা আজকের আর্টিকেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে চিড়া খেলে কোলেস্টেরল বেড়ে যেতে পারে এবং ঠান্ডা লাগার সমস্যা তৈরি হয়। তাছাড়া গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে চিড়া খেলে হৃদরোগের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তাই গর্ভবতী থাকাকালীন সময়ে প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে চিড়া খাওয়া উচিত।

বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১) গর্ভাবস্থায় কি কি শাক খাওয়া যাবে না?

উত্তর: গর্ভাবস্থায় সব ধরনের সবুজ শাকসবজি খাওয়া যাবে।

২)গর্ভাবস্থায় কি কি খাওয়া যাবে না?

উত্তর: বিভিন্ন ধরনের প্রসেসড ফুড, ফাস্টফুড, আদা সিদ্ধ মাংস, কফি এবং নেশা জাতীয় দ্রব্য এ সময় গ্রহণ করা যাবে না।

৩) গর্ভাবস্থা বৃদ্ধির খাবার?

উত্তর: প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খান, তাজা ফলমূল এবং শাকসবজি খাওয়া উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top