Chorabali Logo

চোখের অঞ্জনি কতদিন থাকে? | অঞ্জনি চিকিৎসার সময়কাল

চোখের অঞ্জনি একটি সাধারণ সমস্যা, যা অনেক মানুষকেই কখনো না কখনো ভোগায়। চোখের পলকের উপরের বা নিচের দিকে ছোট ফোঁড়া বা গুটি হিসেবে দেখা যায় এটি। অঞ্জনি খুবই যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে এবং এতে দৈনন্দিন কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। তাই এটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং যথাযথ চিকিৎসা করা খুবই জরুরি। এই পোস্টে আমরা জানবো চোখের অঞ্জনি কতদিন স্থায়ী হয় এবং এর চিকিৎসার সময়কাল সম্পর্কে।

চোখের অঞ্জনি কী?

অঞ্জনি হলো এক ধরনের ছোট ফোঁড়া, যা চোখের পলকের উপরের বা নিচের দিকে দেখা দেয়। এটি সাধারণত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে হয় এবং এতে পলকের তেল গ্রন্থি বন্ধ হয়ে যায়। অঞ্জনি দেখতে অনেকটা ছোট পিম্পলের মতো হয় এবং এতে লালচে রঙ এবং ফোলা থাকতে পারে। এটি সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যে নিজে নিজেই সেরে যায়, তবে কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

চোখের অঞ্জনি কতদিন থাকে?

চোখের অঞ্জনি সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই সেরে যায়। এটি প্রথমে লাল হয়ে ফুলে ওঠে এবং ব্যথা অনুভূত হয়। পরে এটি পুঁজ তৈরি করে এবং ফেটে যায়। ফেটে যাওয়ার পর ব্যথা কমতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে সেরে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যদি সংক্রমণ বেশি হয় বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, তাহলে সেরে উঠতে বেশি সময় লাগতে পারে।

অঞ্জনি সেরে ওঠার সময়কাল

১. প্রথম দিন: প্রথমে চোখের পলকের একটি নির্দিষ্ট স্থানে লাল হয়ে ফুলে ওঠে। এই সময়ে হালকা ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

২. দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ দিন: লাল ফোলাটির মধ্যে পুঁজ জমতে শুরু করে এবং এটি আরও বেশি ফুলে ওঠে। ব্যথা বাড়তে থাকে এবং চোখে জ্বালা অনুভূত হতে পারে।

  1. পঞ্চম থেকে সপ্তম দিন: অঞ্জনি পূর্ণতা পায় এবং এতে পুঁজ জমা হয়। এই সময়ে ব্যথা ও অস্বস্তি সবচেয়ে বেশি হয়।
  2. অষ্টম থেকে দশম দিন: অঞ্জনি ফেটে যায় এবং পুঁজ বের হয়ে আসে। ফেটে যাওয়ার পর ব্যথা কমতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে সেরে যায়।

অঞ্জনি চিকিৎসার পদ্ধতি

অঞ্জনি সাধারণত নিজে নিজেই সেরে যায়, তবে কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করলে এটি দ্রুত সেরে উঠতে পারে এবং ব্যথা কমানো যায়। নিচে কিছু সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতি দেয়া হলো:

  1. গরম সেঁক: গরম পানিতে পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে তা অঞ্জনির উপর ১০-১৫ মিনিট রাখুন। দিনে ৩-৪ বার এই প্রক্রিয়া করুন। গরম সেঁক পুঁজ দ্রুত বের হতে সাহায্য করে এবং ব্যথা কমায়।
  2. পরিষ্কার রাখা: অঞ্জনির চারপাশের ত্বক পরিষ্কার রাখুন। নরম, পরিষ্কার কাপড় দিয়ে প্রতিদিন এটি পরিষ্কার করুন। চোখে মেকআপ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
  3. এন্টিবায়োটিক মলম: যদি সংক্রমণ বেশি হয় বা অঞ্জনি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ডাক্তার এন্টিবায়োটিক মলম বা ড্রপ প্রয়োগ করতে পারেন।
  4. ব্যথা কমানোর ওষুধ: ব্যথা কমানোর জন্য প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ খেতে পারেন।
  5. ডাক্তারের পরামর্শ: যদি অঞ্জনি ৭-১০ দিনের মধ্যে সেরে না যায় বা এটি খুব বেশি ব্যথা ও অস্বস্তি তৈরি করে, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

প্রতিরোধের উপায়

অঞ্জনি প্রতিরোধ করার জন্য কিছু সাধারণ পদক্ষেপ অনুসরণ করতে পারেন:

  1. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা: চোখ এবং হাত পরিষ্কার রাখুন। হাত দিয়ে চোখে ময়লা লাগানো থেকে বিরত থাকুন।
  2. মেকআপের সতর্ক ব্যবহার: চোখের মেকআপ পরিষ্কার এবং মানসম্মত পণ্য ব্যবহার করুন। মেয়াদ উত্তীর্ণ মেকআপ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
  3. কন্টাক্ট লেন্সের পরিচ্ছন্নতা: কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারের আগে এবং পরে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন।
  4. ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি না করা: তোয়ালে, মেকআপ ব্রাশ ইত্যাদি ব্যক্তিগত সামগ্রী অন্যের সাথে ভাগাভাগি না করা।

উপসংহার

চোখের অঞ্জনি একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এটি অনেক যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। সাধারণত এটি ৭-১০ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই সেরে যায়, তবে সংক্রমণ বেশি হলে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। গরম সেঁক, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, এন্টিবায়োটিক মলম প্রয়োগ ইত্যাদি পদ্ধতি অনুসরণ করে অঞ্জনি দ্রুত সেরে ওঠা সম্ভব। যদি অঞ্জনি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা বেশি সমস্যা তৈরি করে, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। অঞ্জনি প্রতিরোধের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি না করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top