Chorabali Logo

ছেলে সন্তান হওয়ার লক্ষণ সমূহ: সঠিক জ্ঞান এবং পরামর্শ

ছেলে সন্তান হওয়ার লক্ষণ অনেক ভাবেই বুঝা যায়। প্রত্যেক নারীর জীবনে প্রেগনেন্সির ৯ মাস স্মরণীয় হয়ে থাকে। সব হবু মায়েরাই নিজের অনাগত সন্তানকে নিয়ে একটা স্বপ্ন দেখে থাকেন। ভয়, আনন্দ, কষ্ট একসঙ্গে মিশ্রিত হয়ে কেটে যায় নয় মাস। প্রেগনেন্সি শুরু থেকেই হবু মা এবং তার পরিবারের লোকজনের জানার ইচ্ছা থাকে সন্তানটি ছেলে হবে না মেয়ে হবে?

[box type=”shadow” align=”aligncenter” class=”” width=””] মর্নিং সিকনেস, বমির প্রবণতা, হৃদস্পন্দন, টক অথবা ঝাল, ত্বক এবং চুলের অস্বাভাবিক পরিবর্তন [/box]

স্বাভাবিক কিছু লক্ষণ দেখেই বোঝা যায় গর্ভের সন্তানটি ছেলে নাকি মেয়ে। বাড়ির মুরুব্বী এবং বয়োজ্যেষ্ঠরা বিভিন্ন প্রচলিত কথায় বিশ্বাসী হন। যা থেকে তারা ধারণা করতে পারেন গর্ভের সন্তানটি ছেলে নাকি মেয়ে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ছেলে সন্তান হওয়ার লক্ষণ গুলো কি কি ।

ছেলে সন্তান হওয়ার লক্ষণ

কিভাবে বুঝবো ছেলে সন্তান হচ্ছে? 

গর্ভে ছেলে সন্তান বেড়ে ওঠার সময়কালে স্বাভাবিক কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। কিভাবে বুঝবো ছেলে সন্তান হচ্ছে তা নিয়ে আমরা নিচে আলোচনা করব:

মর্নিং সিকনেস কম অনুভূত হওয়া

গর্ভে ছেলে সন্তান থাকলে হবু মায়েদের মর্নিং সিকনেস সাধারণত কম অনুভূত হয়। অর্থাৎ মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব তুলনামূলক কম হয়। বিভিন্ন গবেষণা থেকে এটা প্রমাণিত। ৮০ ভাগ মা দের ছেলে সন্তান হওয়ার ক্ষেত্রে এই রকম হয়ে থাকে। 

ত্বক এবং চুলের অস্বাভাবিক পরিবর্তন

মুরুব্বীরা ধারণা করেন গর্ভে ছেলে সন্তান থাকলে হবু মা এর চেহারা এবং চুলের ধরন আরো সুন্দর হয়। যা মেয়ে সন্তান গর্ভে থাকলে হয় না। আরও একটি কথা প্রচলিত আছে, বাবার চেহারা তখন খারাপ হয়। অর্থাৎ ছেলে বাবার চেহারা কেরে নেয়। আর সন্তান যদি মেয়ে হয় তাহলে মা এর চেহারা খারাপ হয়। তখন মায়ের চেহারা কেরে নেয় মেয়ে সন্তান। 

টক অথবা ঝাল জাতীয় খাবারের প্রতি ঝোঁক

সাধারণত যেসব হবু মায়েরা মিষ্টি জাতীয় খাবার পছন্দ করেন ধরে নেওয়া হয় তাদের কন্যা সন্তান হবে। আর যেসব মায়েরা টক অথবা ঝাল খেতে অত্যাধিক পছন্দ করেন তাদের ছেলে সন্তান হবে বলে মনে করা হয়।

হৃদস্পন্দন

গর্ভস্থ বাচ্চা যদি হৃদস্পন্দন কম বেশি থাকে। এটা ছেলে সন্তান হওয়ার লক্ষণ এর সাথে মিলে যায়। তাহলে ধরে নেওয়া হয় যে ছেলে সন্তান হবে। হৃদস্পন্দন বেশি অনুভূত হলে মেয়ে বাবু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

বেবি বাম্প

গর্ভে সন্তান থাকলে অনেক সময় গর্ভ নিচের দিকে ঝুলে যায়। এ অবস্থায় ধরে নেওয়া হয় যে ছেলে সন্তান হবে। এবং সন্তান পেটের নিচের দিকে অবস্থান করলেও ছেলে সন্তান হবে বলে মনে করা হয়।

বমির প্রবণতা

ধারণা করা হয় যেসব গর্ভবতী মহিলারা তুলনামূলক কম বমি করেন তাদের গর্ভে ছেলে সন্তান বেড়ে উঠছে। বমি কম বা বেশি অনেক কারণেই হতে পারে। গর্ভকালীন সময়ে এটা খুবই সাধারণ বিষয়। এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।

খাবারের কম রুচি ছেলে সন্তান হওয়ার লক্ষণ

সাধারণত মনে করা হয় যে সব গর্ভবতী মহিলাদের খাবারের প্রতি মোটামুটি রুচি থাকে তারা ছেলে সন্তানের মা হতে চলেছে। মেয়ে সন্তানের থেকে কম রুচি হয়। 

কত সপ্তাহে ছেলে না মেয়ে বোঝা যায়

সাধারণত বাচ্চার লিঙ্গ, চোখের আকৃতি, চুলের ধরন ইত্যাদি ১১ সপ্তাহের মধ্যেই নির্ধারিত হয়ে থাকে। তবে এ সময় আল্ট্রাসনোগ্রাফি করলে সন্তান ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে তা বোঝা যায় না। 

সেক্ষেত্রে অন্তত ১৪ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় নিতে হয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ১৪ সপ্তাহেও গর্ভের সন্তান ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে তা বোঝা যায় না। সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী হাতে সময় নিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফি এর মাধ্যমে বোঝা যেতে পারে।

এছাড়াও – ৭ দিনে ব্রণ দূর করার উপায় – সবচেয়ে সহজ ও কার্যকারী

ছেলে সন্তান পেটের কোন দিকে নড়ে

সাধারণত ধারণা করা হয় ছেলে সন্তান পেটের নিচের দিকে অবস্থান করে। এবং মেয়ে সন্তানের তুলনায় পেটের নিচের দিকে নড়াচড়া বেশি করে। তবে গর্ভ কিছুটা ঝুলে গেলে বাচ্চা নিচের দিকে থাকলে ধরে নেওয়া হয় যে গর্বের সন্তান ছেলে হতে চলেছে।

গর্ভে সন্তান ছেলে হবে নাকি মেয়ে এর কোন স্পষ্ট ধারণা নেই। এবং আমরা উপরে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করলাম তা নিতান্তই সমাজের বয়স্ক ব্যক্তিদের ধারণা। এই প্রচলিত ধারণাগুলোর কোন সুস্পষ্ট বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ নেই। 

তাই এই ধরণের লক্ষণ দেখেই গর্ভের সন্তান ছেলে অথবা মেয়ে ধারণা করা ঠিক না। ছেলে সন্তান হওয়ার লক্ষণ কি কি এই বিষয়ে একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে, তাকে ভালো মানুষ হিসেবে গরে তোলার দায়িত্ব আমাদের। যে পরবর্তী প্রজন্ম ছেলে সন্তান ও মেয়ে সন্তানের জন্য কোন প্রকার তর্ক বিতর্কে না জরায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top