Chorabali Logo

১১ টি সেরা জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় ও বাচ্চার জ্বর কমানোর উপায় 2024

জ্বর হলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিবায়োটি গুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। আজকের পোস্টে জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় গুলো আলোচনা করবো। জ্বরের ফলে খাবারের প্রতি রুচি কমে যায় এবং শরীর বেশ দুর্বল হয়ে যায়। জ্বরের স্থায়িত্ব সবার ক্ষেত্রে সমান হয় না। তবে জ্বর কমানোর উপায় গুলো মেনে চললে খুব সহজে জ্বর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। কিন্তু অনেকে জ্বর আসলে নিজের মতো করে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খেয়ে থাকেন। যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। চলুন এক নজরে দেখে নেই সাধারণ জ্বর ও ভাইরাস জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় গুলো কি কি?

জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায়

জ্বরের স্থায়িত্ব স্বাভাবিক ভাবে ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে শারীরিক কোন অসুবিধা থাকলে এই জ্বরে আপনি এক সপ্তাহের বেশি ভুগতে পারেন। নিচে আমরা জ্বর কমানোর উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব: 

  • মধু ও লেবুর মিশ্রণ পান করুন,
  • আদা এবং মধুর মিশ্রণ জ্বর কমাতে সাহায্য করে,
  • রসুন ফোটানো পানি পান করুন,
  • বিশ্রাম নিন,
  • পানিপট্টি দিন,
  • তরল খাবার খেতে হবে,
  • প্রতিদিন দুইবার স্পঞ্জ করুন,
  • তুলসী পাতা দিয়ে ফোটানো পানি পান করুন,
  • ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খান,
  • ভেজা মোজা পরিধান করুন,
  • উষ্ণ গরম পানিতে গোসল করুন।

মধু ও লেবুর মিশ্রণ

এক গ্লাস উষ্ণ পানিতে এক চামচ মধু এবং অর্ধেকটা লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে পান করুন। এতে করে সাধারণ অথবা ভাইরাস জ্বর কমে যাবে। খুবই কার্যকরী উপায় এইটা। জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় গুলোর মধ্যে অন্যতম উপায় মধু ও লেবুর রস মিশ্রণ। 

আদা এবং মধুর মিশ্রণ

এক গ্লাস উষ্ণ গরম পানির সঙ্গে হাফ চা চামচ আদা বাটা এবং এক চা চামচ মধু মিশিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার পান করুন। সব থেকে ভালো ফলাফল পেতে এই মিশ্রনে লেবু যোগ করতে পারেন।

  • এক চামচ মধু
  • অল্প একটু আদা বাঁটা
  • এক সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে।

রসুন ফোটানো পানি

একটি পাত্রে ১/২ বা হাফ লিটার পানি নিন। পানিতে ৫ থেকে ৬ কোয়া কাঁচা রসুন ছেড়ে দিন। ৬ থেকে ৮ মিনিট স্বাভাবিক তাপে ফুটিয়ে নিন। পানি ঠান্ডা হলে ছেকে মধু মিশিয়ে পান করুন।

বিশ্রাম নিন

বিশ্রাম নিলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই জ্বরের আরেকটি ঔষধ হল বিশ্রাম নেওয়া। চেষ্টা করবেন বেশি বেশি পানি পান করার এবং তরল জাতীয় খাবার বেশি খাওয়ার। 

পানিপট্টি দিন

অনেক সময় জ্বর মাথায় ওঠে অর্থাৎ মাথা খুব গরম হয় এবং সেন্সলেস হয়ে যায়। এমন অবস্থায় পানিপট্টি দিলে জ্বরের তীব্রতা খুব তাড়াতাড়ি কমে যায়। এক্ষেত্রে একটি নরম কাপড় পানি দিয়ে ভিজিয়ে কপালে ধরে রাখুন। কিছু সময় পর আবার পরিষ্কার পানি দিয়ে ভিজিয়ে কপালে ধরুন। প্রক্রিয়াটি বারবার করতে থাকুন। খুবই কার্যকরী উপায় এইটা। সেরা জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় এইটা।

তরল খাবার খান

জ্বর হলে শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে যায়। এই সময় তরল জাতীয় খাবার খেলে ডিহাইড্রেশনের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। তাই বিভিন্ন ফলের রস, সুপ, যে কোন ধরণের তরল খাবার ইত্যাদি খেতে হবে।  

স্পঞ্জ করুন

জ্বর হলে ঠান্ডা পানি দিয়ে একটি কাপড়ের সাহায্যে বারবার শরীর মুছে নিতে হবে। জ্বর হলে প্রতিদিন অন্তত দুইবার করে স্পঞ্জ করলে জ্বরের তীব্রতা কিছুটা কমে আসে। 

তুলসী পাতা ফোটানো পানি

কিছুটা পানির সঙ্গে চার থেকে পাঁচটি তুলসী পাতা একসঙ্গে ফুটিয়ে নিন। পানি ঠান্ডা হয়ে আসলে এর সঙ্গে পরিমাণ মতো মধু যোগ করে খান। এতে করে জ্বর কমে আসবে।

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার

জ্বর হলে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলমূল বেশি করে খান। এতে করে মুখের রুচি নষ্ট হবে না। এবং শরীর অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়বে না।

ভেজা মোজা পরিধান

শুনতে কিছুটা হাস্যকর মনে হলেও জ্বর হলে ভেজা মোজা পরিধান করলে জ্বরের প্রকোপ কমে আসে। 

উষ্ণ গরম পানিতে গোসল

জ্বর হলে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে গোসল করুন। এবং এ সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে জ্বরের তীব্রতা কমবে। ১১ টি সেরা জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় এইটা শেষ উপায়। আশা করি, এই উপায় গুলো আপনার খুব উপকারে আসবে। 

বাচ্চার জ্বর কমানোর উপায়

জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় - 2

বাচ্চাদের জ্বর হলে সবার চিন্তা একটু বেশি হয়। এতে চিন্তার কোন কারণ নাই, জ্বর মানুষের শরীরের স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। সামান্য কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চলেই আপনার সন্তানের জ্বর কমাতে পারবেন। তাহলে চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বাচ্চার জ্বর কমানোর উপায়-

  • তরল খাবার বেশি করে খাওয়ান,
  • কিছুক্ষণ পরপর মাথায় পানি দিন,
  • দিনে তিন থেকে চার বার স্পন্জ করুন,
  • খাবার স্যালাইন খাওয়ান,
  • টক জাতীয় এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খাওয়ানোর চেষ্টা করুন,
  • শিশুকে ফ্যানের নিচে রাখুন।

১০২° বা তারও বেশি জ্বর হলে মলদ্বারে প্যারাসিটামল সাপোজিটরি ব্যবহার করতে পারেন। তবে বাচ্চার জ্বর হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

আরও>> নবজাতক শিশুর যত্ন নেওয়ার উপায়

শেষ কথা

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এছাড়াও বাচ্চার জ্বর কমানোর উপায় বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করেছি। তবে আমরা আরও একটি পরামর্শ দিবো জ্বর হলে দেরি না করে খুব দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। বাচ্চাদের জ্বর আসলে কোন ভাবেই দেরি করা উচিত না। যারা হালকা বা মাঝারি জ্বরে ভুগছেন আশা করি আজকে আর্টিকেলটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। কিন্তু আপনি যদি ভাইরাসজনিত অথবা অন্য কোন রোগের জন্য জ্বরে আক্রান্ত হন তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১) বাচ্চার তাপমাত্রা বেশি হলে কি করব?

উত্তর: হালকা কাপড় দিয়ে শরীর ঢেকে রাখুন এবং তরল খাবার খাওয়ান।

২) ভাইরাস জ্বর কত দিন থাকে?

উত্তর: তিন থেকে পাঁচ দিন স্থায়ী হতে পারে।

৩) বাচ্চাদের কত ঘন্টা পর পর সাপোজিটরি দেয়া যায়?

উত্তর: চার থেকে ছয় ঘন্টা পর পর সাপোজিটরি দেওয়া যায়।

৪) বাচ্চার জ্বর হলে কখন সতর্ক হওয়া উচিত?

উত্তর: ১০২° এর উপরে জ্বর হলে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top