Chorabali Logo

ওষুধ ও ঘরোয়া ভাবে টনসিল ফোলা কমানোর উপায়

সাধারণত ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে টনসিল ফুলে যায়। এছাড়াও বয়ঃসন্ধির কারণেও টনসিল ফুলতে পারে। টনসিল ফোলা কমানোর উপায় নিয়ে আমাদের আজকের পোস্ট। গলা ব্যথা, গিলতে অসুবিধা, টনসিল ফুলে যাওয়া, জ্বর এবং কখনও কখনও টনসিলে সাদা দাগ এই ধরনের লক্ষণ গুলো দেখা যায়। মূলত টনসিল মুখ এবং নাক দিয়ে প্রবেশকারী ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসকে ফিল্টার করে ধ্বংস করতে সহায়তা করে।

যথেষ্ট বিশ্রাম, হাইড্রেশন, অ্যান্টিবায়োটিক, বিরক্তিকর এড়িয়ে চলুন,  উষ্ণ জল গার্গল করলে টনসিল দ্রুত ঠিক হয়ে যায় । যদি টনসিল ভয়াবহ রূপ নেয়, তখন সার্জারি করতে হবে । এই অপারেশনের খরচ খুবই কম।

টনসিল ফোলা কমানোর উপায়

আমাদের মুখের ভেতর চারটি গ্রুপে টনসিল বিভক্ত থাকে।

গ্রুপ গুলোর নাম হল:

  • লিঙ্গুয়াল,
  • প্যালাটাইন,
  • টিউবাল ও
  • অ্যাডেনয়েড।

এটির যেকোনো একটিতে ব্যথা শুরু হলে টনসিলাইটিস। এবং একে আমরা সচরাচর টনসিল বলেই চিনি। এটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অংশ। শীতের প্রকোপে শিশুসহ সব বয়সী মানুষের টনসিলের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

টনসিল ফোলা কমানোর উপায় রয়েছে বিভিন্ন রকমের। কিছু ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করেও টনসিল ফোলা কমানো যায়। লবণ পানিতে গারগেল করে অথবা গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে টনসিলের ব্যথা কমে যায়। এছাড়া তুলসী পাতার পেস্ট মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলেও টনসিল এর ফোলা ভাব কমে। নিচে আমরা টনসিল ফোলা কমানোর উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

টনসিল ফোলা কমানোর উপায়- ঘরোয়া চিকিৎসা 

টনসিল ফোলা কমানোর উপায়

আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না টনসিল হলে কি কি খাবারের মাধ্যমে টনসিলের ব্যথা কমে। চলুন এক নজরে দেখে নেই টনসিলের ঘরোয়া চিকিৎসা গুলো কি কি।

  • উষ্ণ গরম পানি দিয়ে গার্গেল,
  • উষ্ণ গরম পানি ও লবণ,
  • লেবুর রস ও মধু,
  • গ্রিন টি ও মধু,
  • হলুদ এবং দুধ,
  • তুলসী পাতা ও মধু,
  • আদা,
  • কাঁচা রসুন,
  • টক দই।

উষ্ণ গরম পানি দিয়ে গার্গেল

টনসিলের ব্যথা এবং স্বাভাবিক গলা ব্যথায় উষ্ণ গরম জল দিয়ে গার্গেল হল সব থেকে ভালো পদ্ধতি। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যা উষ্ণ গরম পানি দিয়ে গার্গেল করলে নিমিষেই টনসিলের ব্যথা দূর হবে।

উষ্ণ গরম পানি ও লবণ

উষ্ণ গরম পানিতে কিছুটা লবণ যোগ করতে হবে। এই পানি দিয়ে কারগিল করতে পারেন অথবা পান করতে পারেন। টনসিলের ব্যথার ক্ষেত্রে এটি খুবই কার্যকরী।

লেবুর রস ও মধু

মিডিয়াম সাইজের একটি লেবুর রসে ১ চা চামচ মধু যোগ করুন। এতে সামান্য একটি লবণ মিশিয়ে দিনে একবার করে খেলে টনসিলের ব্যথা বিদায় নেবে।

গ্রিন টি ও মধু

এক চামচ মধু এবং এক চা চামচ গ্রিন টি একত্র কয়েক মিনিট ধরে ফুটিয়ে নিন। এতে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান টনসিলের ব্যথা দূর করবে।

হলুদ এবং দুধ

এক কাপ উষ্ণ গরম দুধে কিছুটা হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন। এতে বিদ্যমান অ্যান্টিইনফ্লেমটরি উপাদান টনসিলের ব্যথা কমানোর পাশাপাশি ঠান্ডা জনিত সমস্যা দূর করবে।

তুলসী পাতা ও মধু

২ চা চামচ তুলসী পাতার রস কিছুটা মধুর সাথে টনসিলের ব্যথায় সকাল এবং সন্ধ্যায় খেতে পারেন। তুলসী পাতা এবং মধুর ঔষধি গুণ টনসিলের ব্যথা সারিয়ে তুলতে সাহায্য করবে।

আদা

প্রশ্নের ব্যথায় নিয়মিত কাঁচা আদার রস অথবা চায়ের সঙ্গে আদার রস মিশিয়ে খেতে পারেন। নিমিষেই টনসিলের ব্যথা সারিয়ে তুলতে এটি খুবই কার্যকরী।

কাঁচা রসুন

কাঁচা রসুন চিবিয়ে খেলে টনসিলের ফোলা ভাব, টনসিলের ব্যথা পুরোপুরি নিরাময় হয়ে যায়।

টক দই

টক দই এই বিদ্যমান প্রবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া টনসিল এর ফলাভাব দূর করতে সাহায্য করে।

টনসিল অপারেশন হলে কি কি খাওয়া যাবে না

টনসিলের ব্যথায় কিছু কিছু খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এই ধরনের খাবারে অপারেশন এর জায়গায় পুনরায় ব্যথা সৃষ্টি হতে পারে অথবা রক্তপাত হতে পারে। চলুন দেখে নেই টনসিল অপারেশন হলে কি কি খাওয়া যাবেনা;

  • কাটা জাতীয় মাছ,
  • মাংসের হাড় বিদ্যমান রয়েছে এমন খাবার,
  • শক্ত বিস্কিট অথবা পিঠা,
  • শক্ত এবং মসলাদার খাবার,
  • চানাচুর, ফুসকা ইত্যাদি ধরনের ফাস্টফুড,
  • বিভিন্ন মিষ্টি খাবার এবং প্রসেসড ফুড,
  • রিচ ফুড অথবা ফ্যাট জাতীয় খাবার,
  • ফুলকপি, বাঁধাকপি খাওয়া যাবেনা,
  • চিজ।

টনসিলের অপারেশনের পর অন্তত ৭ দিন এই খাবারগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। অপারেশনের জায়গায় কিছুটা শুকিয়ে আসলে এই খাবারগুলো খেতে পারবেন।

টনসিল হলে কি কি খাওয়া যাবে না

কিছু কিছু খাবারের যেমন টনসিলের ব্যথা কমে যায় আবার কিছু খাবারে টনসিলের ব্যথা বেড়ে যায়। টনসিলের ব্যথা হলে কিছু খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। চলুন জেনে নেই টনসিল হলে কি কি খাওয়া যাবেনা?

  • দুধ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এমন সব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে,
  • রান্না করা গাজর এবং পাকা গলা খাওয়া যাবেনা,
  • ময়দা দিয়ে তৈরি রুটি, পাস্তা এবং ড্রাই ফ্রুটস পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হবে,
  • বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি এই তিনটি সবজি খাওয়া যাবেনা,
  • মিষ্টি আলু, চিনা বাদাম টনসিলের ব্যথা বাড়িয়ে তোলে,
  • যেকোনো ধরনের জাঙ্ক ফুড এবং বাহিরের খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

টনসিল কত প্রকার?

প্রতিটি মানুষের গলার ভেতর সাধারণত চার ধরনের টনসিল বিদ্যমান থাকে। এগুলোর নাম হল:

  1. লিঙ্গুয়াল,
  2. প্যালাটাইন,
  3. টিউবাল ও
  4. অ্যাডেনয়েড।

এই চারটা টনসিলের গঠন সম্পূর্ণরূপে আলাদা।

তবে এদের অধিকাংশের আকার হয়ে থাকে দীর্ঘ প্রসস্থ অথবা দীর্ঘ শাখাবিহীন। এদের মধ্যে টিউবাল ও অ্যাডেনয়েড টনসিল গলবিল এর ছাদ এ অবস্থিত থাকে। লিঙ্গুয়াল টনসিল অবস্থিত থাকে জিহ্বা এর পেছনে। প্যালাটাইন টনসিল এর অবস্থান ওরোফ্যারিংসের পাশে।

শেষ কথা

টনসিল এর ব্যথা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে। আমরা আমাদের স্বাভাবিক দৈনন্দিন যাত্রায় যেসব খাবার গ্রহণ করি টনসিলের কারণে সেগুলো ব্যাহত হয়। 

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা টনসিল ফোলা কমানোর উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এবং টনসিল হলে কি খাবার খাবেন এবং কি খাবার বর্জন করবেন তা আমরা আমাদের আর্টিকেলে তুলে ধরেছি। সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়লে আশা করি আপনারা উপকৃত হবেন।

বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১)৪টি প্রধান টনসিল কি কি?

উত্তর:  লিঙ্গুয়াল, প্যালাটাইন, টিউবাল ও অ্যাডেনয়েড।

২)টনসিল কত বড়?

উত্তর: টনসিলের আঁকার সাধারণত একটি বড় জলপাইয়ের মত হয়ে থাকে।

৩)টনসিল ও এডিনয়েড ছাড়া কি স্ট্রেপ গলা হতে পারে?

উত্তর: টনসিল অপারেশন এর ইতিহাস থাকলে এই সংক্রমনে আক্রান্ত হতে পারেন।

৪) টনসিল এর ঔষধ?

উত্তর: ফিক্স ১০০ এম জি ট্যাবলেট। এই ঔষধটি চুষে খাওয়ার ঔষধ। সকালে এবং রাতে দুইবার এই ওষুধটি সেবন করতে হবে। কান, গলা এবং টনসিলের ব্যাথায় এই ঔষধটি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top