Chorabali Logo

ঈদুল আযহা: কোরবানির পশু জবাই করার দোয়া ও দোয়ার গুরুত্ব ও ধর্মীয় নির্দেশনা 2024

কোরবানির পশু জবাই করার দোয়া পড়া সুন্নত, যা এই ইবাদতের মূল তাৎপর্যকে আরও গভীর করে। কোরবানি করার আগে আল্লাহর নামে শুরু করে এই দোয়া পড়তে হয়। ঈদুল আযহা মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এই দিনটিকে কোরবানি ঈদও বলা হয়, কারণ এই দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে পশু কোরবানি করা হয়। কোরবানির এই পদ্ধতি ও তাৎপর্য আমাদের প্রিয় নবী ইবরাহিম (আঃ) এবং তাঁর পুত্র ইসমাইল (আঃ)-এর প্রতি আল্লাহর নির্দেশ পালনের ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতীক।কোরবানির পশু জবাই করার দোয়া

কোরবানির পশু জবাই করার দোয়া

কোরবানির পশু জবাই করার দোয়া পাঠ করা সুন্নত:

بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُمَّ هَذَا مِنْكَ وَلَكَ

উচ্চারণ:
বিসমিল্লাহি, আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা হা-জা মিনকা ওয়ালাকা

বাংলা অর্থ:
“আল্লাহর নামে শুরু করছি, আল্লাহ মহান। হে আল্লাহ! এটি তোমার পক্ষ থেকে এবং তোমারই জন্য।”

এই দোয়া পাঠ করে আল্লাহর নামে পশু জবাই করা হয়। পশু জবাই করার সময় আল্লাহর নাম ও তাঁর বড়ত্ব প্রকাশ করা এবং এ কাজকে আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করার মাধ্যমে কোরবানির মূল উদ্দেশ্য পূরণ হয়।

ঈদের দিন কোরবানি কার উপর ওয়াজিব?

ঈদের দিন কোরবানি করা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণকারী মুসলমানদের উপর ওয়াজিব (অবশ্য পালনীয়)। কোরবানির পশু জবাই করার দোয়া সহ নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূরণ করলে কোরবানি করা ওয়াজিব হয়:

  1. মুসলিম হওয়া: কোরবানি করার জন্য ব্যক্তিকে মুসলিম হতে হবে।
  2. বালেগ হওয়া: প্রাপ্তবয়স্ক (বালেগ) হতে হবে। অর্থাৎ, শারীরিকভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে।
  3. আকিল (সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী) হওয়া: মানসিকভাবে সুস্থ হতে হবে।
  4. মুকীম (স্থানীয় বাসিন্দা) হওয়া: যিনি মুসাফির নন, অর্থাৎ নিজের স্থায়ী বাসস্থানে অবস্থানরত।
  5. সম্পদশালী হওয়া: নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হবে। ইসলামী শরীয়াহ মতে, যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ আছে, অর্থাৎ তার মৌলিক চাহিদা মেটানোর পরেও প্রয়োজনীয় সম্পদ রয়েছে। সাধারণত এই নিসাব হলো ৭.৫ তোলা সোনা বা তার সমপরিমাণ অর্থ-সম্পদ বা সম্পদ।
    যারা এই শর্তগুলো পূরণ করে, তাদের উপর কোরবানি করা ওয়াজিব হয়ে যায়।

পশু জবাইয়ের সময় কয়টি রগ কাটতে হবে?

পশু জবাইয়ের সময় ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক নিম্নলিখিত চারটি রগ কাটতে হয়:

  1. হুলকুম (শ্বাসনালী): এই রগটি কাটার মাধ্যমে পশুর শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়।
  2. মরী (খাদ্যনালী): এই রগটি কাটার মাধ্যমে পশুর খাদ্য গ্রহণের পথ বন্ধ হয়।
  3. দুইটি জাগুলার শিরা (রক্তবাহী শিরা): এই দুটি রগ কাটার মাধ্যমে পশুর শরীর থেকে রক্ত বের হয়ে যায়।
    সুতরাং, পশু জবাইয়ের সময় মোট চারটি রগ কাটতে হয়: শ্বাসনালী, খাদ্যনালী এবং দুইটি জাগুলার শিরা। এতে পশুটি দ্রুত এবং কম কষ্টে মৃত্যুবরণ করে, যা ইসলামী বিধান অনুযায়ী মানবিক ও যথাযথ পদ্ধতি।

জবেহ করার মাসয়ালা

পশু জবাই বা কোরবানি করার সময় কিছু নির্দিষ্ট মাসয়ালা বা নিয়ম-কানুন রয়েছে যা পালন করতে হয়। ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক কোরবানি করার সময় নিম্নলিখিত মাসয়ালাগুলো অনুসরণ করতে হবে:

  1. নিয়ত: কোরবানি করার আগে নিয়ত বা অভিপ্রায় স্থির করতে হবে যে, এই কোরবানি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
  2. বয়স: কোরবানির জন্য পশুর নির্দিষ্ট বয়স পূর্ণ হতে হবে:
    •  উট: কমপক্ষে ৫ বছরের হতে হবে।
    • গরু: কমপক্ষে ২ বছরের হতে হবে।
    • ছাগল/ভেড়া: কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে। তবে ভেড়া যদি ৬ মাস পূর্ণ করে ১ বছরের মতো দেখতে হয়, তাহলে তা কোরবানি করা যায়।
  3. সাহিত্তিক ও শারীরিক ত্রুটি মুক্ত: পশু কোরবানির জন্য উপযুক্ত হতে হবে এবং গুরুতর শারীরিক ত্রুটি থাকা যাবে না। যেমন:
    • এক চোখ অন্ধ বা খুবই অসুস্থ হলে।
    • খুবই দুর্বল বা পঙ্গু হলে।
    • কান বা লেজের এক তৃতীয়াংশ বা তার বেশি কাটা থাকলে।
    • দাঁত ভাঙা থাকলে।
  4. জবাইয়ের পদ্ধতি: পশুকে জবাই করার সময় নিচের বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে:
    • বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে জবাই শুরু করতে হবে এবং কোরবানির পশু জবাই করার দোয়া পরতে হবে।
    • শ্বাসনালী, খাদ্যনালী এবং দুইটি জাগুলার শিরা (রক্তবাহী শিরা) কাটতে হবে।
    • পশুকে কেবলার দিকে মুখ করে শোয়াতে হবে।
    • ধারালো ছুরি ব্যবহার করতে হবে যাতে পশুকে কম কষ্ট হয়।
  1. জবাইকারী: জবাইকারী ব্যক্তি হতে হবে মুসলিম বা আহলে কিতাব (ইহুদি বা খ্রিস্টান), সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী এবং কোরবানির পশু জবাই করার দোয়া জানা থাকতে হবে।  
  2. সময়: কোরবানি করতে হবে ঈদুল আযহার নামাজের পর থেকে ১২ই জিলহজের সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত।
  3. পশুর যত্ন: কোরবানি করার আগে পশুকে ভালোভাবে যত্ন নিতে হবে এবং যতটা সম্ভব তাকে কম কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

আরও>>

কোরবানির পশু জবাই করার দোয়া পাঠ করে এই নিয়মগুলো মেনে কোরবানি করলে তা ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক সঠিকভাবে পালিত হবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হবে। ঈদ মোবারক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top