Chorabali Logo

বাচ্চাদের গ্যাসের ঔষধের নামের তালিকা

নবজাতক ও ছোট বাচ্চাদের গ্যাসের সমস্যা সচরাচর দেখা যায়। এটা অনেক বড় কোন সমস্যা না। আমাদের উচিত বাচ্চাদের গ্যাসের ঔষধের নামের তালিকা জেনে রাখা। এবং এই ধরনের ওষুধ সব সময় আমাদের হাতের নাগালে রাখা। স্কায়ার কোম্পানীর Flacol (ফ্লাকোল) সর্বাধিক প্রচলিত একটি ওষুধ। ৮০% ডাক্তার বাচ্চাদের গ্যাসের সমস্যা দূর করার জন্য এই ওষুধ সাজেশন করে থাকে। বাচ্চাদের কিছু নির্দিষ্ট নিয়মের মাধ্যমেই Flacol (ফ্লাকোল) খাওয়াতে হবে। 

বড়দের মতো শিশুদেরও পরিপাকতন্ত্রে সমস্যা হওয়ার কারণে গ্যাস হতে পারে। কারণ এই সময় বাচ্চাদের পরিপাকতন্ত্র ধীরে ধীরে সুগঠিত হতে থাকে। তাছাড়া বাচ্চারা বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড যেমন জুস, চিপস, চকলেট ইত্যাদি গ্রহণ করলে পেটে গ্যাস সৃষ্টি হতে পারে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বাচ্চাদের গ্যাসের ঔষধের নামের তালিকা আপনাদের সামনে তুলে ধরব। 

বাচ্চাদের গ্যাসের ঔষধের মধ্যে সবচেয়ে ভালো কোম্পানির ঔষধ হলো Flacol, Naunehal,Gasnil, Neodrop, Pedicon, Semecon, Lefoam, Simethi. বাচ্চাদের গ্যাস হলে একটু বেশি কান্নাকাটি করে থাকে। এছাড়া শরীরের মোচরাতে থাকা এবং পা পেটের কাছে ভাস করে রাখার লক্ষণ দেখলে বুঝতে হবে বাচ্চাদের গ্যাস হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাচ্চাদের মুখ লাল হয়ে যায়। এছাড়া পেট ফুলে থাকা বাচ্চাদের গ্যাস হওয়ার আরেকটি প্রধান লক্ষণ।

বাচ্চাদের গ্যাসের ঔষধের নামের তালিকা

চলুন একটি ছকের সাহায্যে শিশুদের গ্যাসের ঔষধের নামের তালিকা জেনে নেওয়া যাক:

শিশুদের গ্যাসের ওষুধের নাম কোম্পানির নাম মূল্য
Flacol (ফ্লাকোল)  Square  35 tk
Flatunil ( ফ্লাটুনিল)  Acme 35 tk
Naunehal Herbal  75 tk
Neodrop (নিওড্রপ) Beximco 30 tk
Semecon (সেমেকন)  Drug 46 tk
Pedicon (পেডিকন) Pedicon 30 tk 
Semethi (সেমেথি) Zenith 30 tk 
Lefoam Incepta 30 tk
Gasnil (গ্যাসনিল) Eskayef 30 tk
Simet (সিমেট)  ACI 30 tk

Flacol (ফ্লাকোল) খাওয়ানোর নিয়ম 

বাচ্চাদের জন্য খুবই জরুরি একটা ওষুধ ফ্লাকোল। এটি শুধু মাত্র বাচ্চাদের জন্য সেব্য। কিছু নিয়ম

বাচ্চাদের গ্যাসের ঔষধের নামের তালিকা

  • খাবার গ্রহণের পর এই ওষুধ খাওয়াতে হবে।
  • ২ বেলা খাওয়াতে হবে, সকালে খাবার গ্রহণের পরে, এবং রাতে ঘুমানোর আগে। অবশ্যই ভরা পেটে।
  • ওষুধ ব্যাবহারের পূর্বে বোতল ঝাঁকিয়ে নিতে হবে। ‘
  • ০ থেকে ২ বছরঃ ০.৩ মিলি প্রতি বার । দিনে সর্বাধিক ৪ বার।
  • ২ থেকে ১২ বছরঃ ০.৬ মিলি প্রতিবার । দিনে ৪ বার সর্বাধিক।

বাচ্চাদের গ্যাসের ঔষধের নামের তালিকা

ছোট বাচ্চার পেটে গ্যাস হলে করনীয়

ছোট বাচ্চার পেটে গ্যাস কমানোর জন্য ঔষধ ছাড়াও কিছু মালিশ করতে পারেন। এটি ও গ্যাস কমানোর ক্ষেত্রে খুবই ভালো কাজ করে। ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিরতরে গ্যাস্ট্রিক দূর করা সম্ভব চলুন জেনে নেই ছোট বাচ্চার পেটে গ্যাস হলে করণীয়:

  1. ঘড়ির কাঁটা যেভাবে ঘোরে ঠিক সেভাবে ডান হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে শিশুর পেটের বাম দিক থেকে ডান দিকে মাসাজ করুন। খুবই আলতো হাতে মালিশ করার চেষ্টা করবেন।
  1. বৃদ্ধাঙ্গুল এর সাহায্যে শিশুর নাভির উপরের অংশে মাসাজ করুন। দুইবার মাসাজ পর আবার নাভির নিচের অংশে আরো দুইবার মাসাজ করুন।
  1. শিশুর নাভির উপরে বৃদ্ধাঙ্গুলের সাহায্যে মাসাজ করা শুরু করে আস্তে আস্তে নিচের দিকে নামতে থাকুন। অর্থাৎ নাভির চারিদিকে ঘুরে ঘুরে মাসাজ করতে হবে।
  1. বাচ্চাকে সোজা করে শুয়ে দিয়ে তার দুই পায়ের হাঁটু ভাঁজ করে পেটের দিকে নিয়ে আসুন। পাঁচ সেকেন্ড পর পর এই প্রক্রিয়া চালাতে থাকো। সহজে গ্যাসের সমস্যা দূর হবে।

খেয়াল রাখবেন মাসাজ করার সময় বাচ্চার প্রতিক্রিয়া ঠিক কেমন। বাচ্চা যদি মাসাজ করার ফলে ভালো বোধ করে তাহলে তার প্রতিক্রিয়া দেখে বোঝা যাবে। আর বাচ্চা যদি কোন কারনে অস্বস্তি হয় তাহলে সে কান্নাকাটি করবে। বাচ্চা কান্নাকাটি করলে ওই অবস্থাতেই মাসাজ করা পুরোপুরি বন্ধ করুন।

নবজাতকের পেটে গ্যাস হলে বোঝার উপায়

নবজাতকের পেটে গ্যাস হলে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেসব লক্ষণ দেখে সহজেই বোঝা যায় শিশুর পেটে গ্যাস হয়েছে। চলুন জেনে নেই নবজাতকের পেটে গ্যাস হলে বোঝার উপায় গুলো কি কি?

  • অতিরিক্ত অস্থিরতা পরিলক্ষিত হয়,
  • বাচ্চা দুধ খেতে চায় না অর্থাৎ ক্ষুধা মন্দ তৈরি হয়,
  • বাচা অতিরিক্ত পরিমাণে বায়ু ত্যাগ করতে থাকে,
  • বাচ্চার পেটের নিচের অংশ শক্ত হয়ে থাকে,
  • পেট ফুলে থাকে এবং পেট ফাঁপার লক্ষণ দেখা যায়,
  • অতিরিক্ত অস্থিরতার কারণে বাচ্চা কান্নাকাটি করে,
  • বাচ্চার শরীর মোচরাতে থাকে।

বাচ্চাদের পেটে গ্যাস হলে কি খাওয়া উচিত

বাচ্চাদের পেটে গ্যাস হলে খাবারের তালিকা কিছুটা বদলে যায়। চলুন দেখে নেই বাচ্চাদের পেটে গ্যাস হলে কি খাওয়া উচিত ও বাচ্চাদের গ্যাসের ঔষধের নাম উপরে দেওয়া হয়েছে।

  • দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সের শিশুদের কোন ভাবে ভাজা পোজাতীয় খাবার দেওয়া যাবে না।
  • প্রত্যেক শিশুকেই চার থেকে পাঁচ মিনিট ধরে ব্যায়াম করা। এতে করে গ্যাসের সমস্যা তৈরি হবে না।
  • বাচ্চার গ্যাস হলে ফর্মুলা মিল্ক পুরোপুরি বাদ দিয়ে বুকের দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করুন।
  • বাচ্চাকে ঠান্ডা পানির পরিবর্তে উষ্ণ গরম পানি খাওয়ানো উচিত।

শেষ কথা

বাচ্চাদের গ্যাসের ঔষধের নামের তালিকা নিয়ে আর্টিকেল আমরা আলোচনা করেছি। যারা বাচ্চার গ্যাসের ঔষধ এর মূল্য জানতে চাচ্ছিলেন আশা করি তারা উপকৃত হবেন। কবে বাঁচার গ্যাসের ঔষধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আদৌ বাঁচার গ্যাস হয়েছে কিনা। আর গ্যাস হলেই প্রথমে ওষুধ খাওয়াবেন না। ঘরোয়া পদ্ধতিতে বাচ্চার গ্যাস কমানোর চেষ্টা করুন।

বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১)৪ বছরের বাচ্চার গ্যাসের ঔষধ?

উত্তর: এনফ্যাগ্রো প্রিমিয়াম জেন্টলিজ।

২)চিনি খেলে কি গ্যাস ও পেট ফুলে যায়?

উত্তর: চিনি খেলে পেটে গ্যাস হতে পারে এবং পেট ফুলে যেতে পারে। সাথে পেটের ব্যথা শুরু হতে পারে।

৩)নবজাতক রাতের বেলায় ছটফট করে কেন?

উত্তর: ক্ষুধা লাগা, পেটে গ্যাস হওয়া, ডায়পারজনিত সমস্যা, ঠান্ডা অথবা গরম লাগা ইত্যাদি কারনে।

৪) ৯ বছরের বাচ্চার গ্যাসের চিকিৎসা?

উত্তর: Beano গ্যাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top