Chorabali Logo

গর্ভাবস্থায় বেশি ঝাল খেলে কি হয় | সুস্থতা ও পরিণতি

গর্ভাবস্থায় বেশি ঝাল খেলে কি হয়
গর্ভাবস্থায় বেশি ঝাল খেলে কি হয়

অনেকেই জানতে চায় গর্ভাবস্থায় বেশি ঝাল খেলে কি হয়। গর্ভাবস্থার প্রথম সপ্তাহ থেকে একদম ৪০ সপ্তাহ পর্যন্ত একজন নারী অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবন ধারণ করেন। এই সময় চাইলেই যে কোন রোগের ঔষধ সেবন করা যায় না। তাই খাবার-দাবারের ক্ষেত্রে থাকতে হবে বিশেষ সচেতনতা। গর্ভাবস্থার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন মুখরোচক খাবার খেতে ইচ্ছে হতে পারে। এক্ষেত্রে ঝাল মসলাযুক্ত খাবার অনেকেই গর্ভাবস্থায় পছন্দ করে থাকেন।  

গর্ভাবস্থায় একটি মহিলার শরীরে অনেক পরিবর্তন ঘটে এবং এসময় খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। যেহেতু গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্য এবং মায়ের সুস্থতা নির্ভর করে তার খাদ্যাভ্যাসের উপর, তাই বিশেষভাবে সচেতন থাকা প্রয়োজন। ঝাল খাবার খাওয়া নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, বিশেষত যারা ঝাল পছন্দ করেন। তাহলে, গর্ভাবস্থায় বেশি ঝাল খেলে আসলে কি হয়?

বেশি ঝাল খেলে কি হয়

ঝাল খাবার খাওয়ার ফলে শরীরের ওপর বিভিন্ন প্রভাব পড়তে পারে। এর মধ্যে কিছু ইতিবাচক এবং কিছু নেতিবাচক হতে পারে। গর্ভাবস্থায় ঝাল খাবারের প্রভাব সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

হজমজনিত সমস্যা

ঝাল খাবার বেশি খেলে হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন:

  1. অম্লভাব ও বুক জ্বালা: ঝাল খাবারে থাকা ক্যাপসাইসিন পেটের অম্ল নির্গমন বাড়ায়, যা গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালা বা হার্টবার্নের কারণ হতে পারে।
  2. গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা: অতিরিক্ত ঝাল খেলে পেটে গ্যাস তৈরি হতে পারে, যা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তৈরি করে।
  3. অসিডিটি ও গ্যাস: ঝাল খাবার বেশি খেলে পেটে অসিডিটি বাড়ে এবং গ্যাস জমতে পারে।

হরমোনাল পরিবর্তন

গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মায়ের শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঝাল খাবার খেলে এই সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। যেমন:

  1. প্রোজেস্টেরনের পরিবর্তন: প্রোজেস্টেরন হরমোন গর্ভাবস্থায় বেশি হয়, যা পেটের পেশিকে শিথিল করে। ঝাল খাবার এই প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
  2. এন্ডোরফিন ক্ষরণ: ঝাল খাবার খেলে এন্ডোরফিন হরমোন ক্ষরণ হয়, যা কিছুক্ষণের জন্য স্বস্তি দেয়, কিন্তু পরবর্তীতে সমস্যার কারণ হতে পারে।

পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা

গর্ভাবস্থায় মায়ের এবং শিশুর পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা বেশি। ঝাল খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায় না এবং এটি কিছু সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে:

  1. খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন: অতিরিক্ত ঝাল খেলে স্বাভাবিক পুষ্টিকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়, যা শিশুর সঠিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়।
  2. পুষ্টির ঘাটতি: ঝাল খাবার বেশি খেলে পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে, যা গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

খাদ্যতালিকার ভারসাম্য

ঝাল খাবার খাওয়া মানেই সব সময় ক্ষতিকর নয়। নিয়মিত এবং সীমিত পরিমাণে ঝাল খেলে কোনো ক্ষতি নেই। তবে অতিরিক্ত ঝাল খাবার খেলে খাদ্যতালিকার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এজন্য খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার থাকা জরুরি।

ঝাল খাবারের ইতিবাচক প্রভাব

যদিও অতিরিক্ত ঝাল খাওয়া ক্ষতিকর হতে পারে, তবে সীমিত পরিমাণে ঝাল খেলে কিছু ইতিবাচক প্রভাবও থাকতে পারে:

  1. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণাবলি: ঝাল মরিচে থাকা ক্যাপসাইসিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিক্যাল থেকে রক্ষা করে।
  2. ব্লাড সার্কুলেশন বৃদ্ধি: ঝাল খাবার খেলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।
  3. ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বৃদ্ধি: ঝাল খাবার খেলে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বৃদ্ধি পায়, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

সতর্কতা ও পরামর্শ

গর্ভাবস্থায় ঝাল খাবার খাওয়ার আগে কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি:

  1. পরিমাণ সীমাবদ্ধ রাখা: ঝাল খাবার খাওয়ার পরিমাণ সীমিত রাখতে হবে, যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়।
  2. পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ: খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার রাখা উচিত, যাতে গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধিতে কোনো সমস্যা না হয়।
  3. পরামর্শ গ্রহণ: কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।

গর্ভাবস্থায় ঝাল খাবার খাওয়ার প্রভাব ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন হতে পারে। কিছু মহিলার জন্য ঝাল খাবার সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, আবার কিছু মহিলার জন্য তা সহনীয় হতে পারে। তাই, গর্ভাবস্থায় ঝাল খাবার খাওয়ার আগে মায়েদের নিজ শরীরের প্রতিক্রিয়া এবং ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। খাদ্যতালিকায় ভারসাম্য বজায় রেখে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে, যাতে মায়ের এবং শিশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

কিন্তু এটা কি আসলেও সঠিক? তাই অনেকেই প্রশ্ন করেন গর্ভাবস্থায় বেশি ঝাল খেলে কি হয়? এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের আর্টিকেল। গর্ভাবস্থায় বেশি ঝাল দেওয়া খাবার খেলে উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে। তবে ঝাল খাবার যে একেবারেই খাওয়া যাবেনা এমনটি নয়। ঝাল খেলেও এর মাত্রা সহনীয় হতে হবে। স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ইশরাত জেরিন বলেন- গর্ভাবস্থার একদম শেষ তিন মাসে ঝাল মসলাযুক্ত খাবার খুব কম পরিমাণে গ্রহণ করা ভালো। চলুন এক নজরে দেখে নেই গর্ভাবস্থায় বেশি ঝাল খেলে কি হয়?

  • গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তৈরি হতে পারে,
  • উচ্চ রক্তচাপ তৈরি হতে পারে,
  • মাথা ঘোরার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে,
  • অন্ত্রের প্রদাহ বাড়তে পারে,
  • ডায়রিয়ার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে,
  • বমি বমি ভাব বাড়তে পারে।

আরও জানুন>>

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তৈরি হতে পারে

যে কোন গর্ভবতী মা স্বাভাবিকভাবেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাই ভোগেন। অতিরিক্ত পরিমাণে ঝাল খেলে তার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ তৈরি হতে পারে

উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শুকনো মরিচ এবং শুকনো মরিচের গুঁড়ো দুটোই দায়ী। অতিরিক্ত ঝাল খেতে ইচ্ছা হলে গর্ভবতী মা কাঁচা মরিচ খেতে পারেন। কিন্তু শুকনো মরিচ উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি করে।

মাথা ঘোরার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে

অতিরিক্ত ঝাল খেলে পেটে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তৈরি হওয়ায় মাথা ঘোরা বেড়ে যেতে পারে। এতে করে গর্ভবতী মা অস্বস্তি বোধ করেন।

অন্ত্রের প্রদাহ বাড়তে পারে

গর্ভবতী মা অতিরিক্ত পরিমাণে ঝাল খেলে পেটে ব্যথার সমস্যা তৈরি হয়। এটি অন্ত্রের প্রদাহ বাড়িয়ে তোলে এবং গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতিকর।

ডায়রিয়া হতে পারে

অতিরিক্ত ঝাল খাওয়ার ফলে পেটে ব্যথা হওয়ার পাশাপাশি ডায়রিয়ার মত সমস্যা পরিলক্ষিত হয়। তাই চিকিৎসকণ এই সময়ে কম ঝাল খাওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।

বমি বমি ভাব বাড়তে পারে

আমরা পূর্বেই আলোচনা করেছি, গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ঝাল খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, মাথা ঘোরা ইত্যাদি তৈরি হয়। এবং এরূপ সমস্যায় বমি বমি ভাব বেড়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক।

গর্ভাবস্থায় বেশি ঝাল খেলে কি ক্ষতি হয়

গর্ভাবস্থায় বেশি ঝাল খেলে কি ক্ষতি হয় এ সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন। গর্ভবতী মায়ের ইমিউনিটি সিস্টেম এর লেভেল অনেকটা কমে যায়। এই সময় গর্ভবতী মায়েরা বায়ুবাহিত এবং পানিবাহিত রোগে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত হয়। তাই খাবার-দাবারের ক্ষেত্রেও বেশ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। 

গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে ঝাল খেলে সামান্য থেকে অতিমাত্রায় ডায়রিয়া এর লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এটি গর্ভাবস্থায় মা এবং শিশু দুজনের শরীরের জন্যই মারাত্মক ক্ষতিকর। কারণ মায়ের শরীর থেকে অতিরিক্ত পরিমাণে ফ্লুইড বের হয়ে যায়। 

তাছাড়া কাঁচামরিচ গর্ভবতী মায়ের শরীরের জন্য খুবই ভালো। নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে গর্ভবতী মা এবং গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্য খুবই ভালো থাকে। তবে এই সময় শুকনো মরিচ অথবা শুকনো মরিচের গুড়ো পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হবে।

শেষ কথা

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা গর্ভাবস্থায় বেশি ঝাল খেলে কি হয় এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। যেসব গর্ভবতী মায়েরা এ বিষয়ে জানতে চাচ্ছিলেন আজকের আর্টিকেলটি তাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে আশা করি।

বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১) গর্ভাবস্থায় কুসুম গরম পানি খেলে কি হয়?

উত্তর: গর্ভাবস্থায় কুসুম গরম পানি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

২)24 সপ্তাহে বাচ্চার জন্য কি কি খেতে হবে?

উত্তর: এই সময়ে বাচ্চার জন্য প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার গুলো অধিক মাত্রায় প্রয়োজন।

৩) গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাসে কি খাবেন?

উত্তর: গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাসে ব্রকলি, পাতাকপি, সামুদ্রিক মাছ, দেশি ছোট মাছ, ডিম পালং শাক ইত্যাদি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top