Chorabali Logo

ভোক্তা অধিকার অভিযোগ করার নিয়ম – সহজ ও সঠিক পদ্ধতি জেনে নিন

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যারা সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনে এবং প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়। ভোক্তা অধিকার অভিযোগ করার নিয়ম খুব সহজ। সে ক্ষেত্রে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র ও ফোন নাম্বার লাগবে। অনলাইনে ৪ ধরণের অভিযোগ করতে পারবেন। খাদ্যদ্রব্য, পণ্য, মেডিসিন ও সার্ভিস এই ৪ ধরণের অভিযোগ ভোক্তা অধিদপ্তর গ্রহণ করে ।

কোন ব্যাক্তির অভিযোগ যদি সত্য হয় তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানকে যে জরিমানা করা হয়, তার ২৫% অর্থ অভিযোগকারী পায়। ৬০ কর্ম দিবসের মধ্যেই অভিযোগ নিস্পত্তি করা হয়। অভিযোগকারীর তথ্য সর্বদা গোপনীয় থাকে।

ভোক্তা অধিকার অভিযোগ করার নিয়ম

জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া ভোক্তা অধিদপ্তরের প্রধান কাজ। অনলাইনের মাধ্যমে নতুন ওয়েব পোর্টাল চালু হয়েছে যেগুলোতে ভোক্তা তাদের অভিযোগ জানাতে পারেন।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর একটি আধা-বিচারিক সরকারি । এই সংস্থা আমাদের দেশের পণ্য ও বিভিন্ন সেবার উপর ভোক্তাদের কোন অভিযোগ থাকলে তা যাচাই করে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে ভোক্তাদের অধিকার আদায় করতে সাহায্য করে।

ভোক্তা অধিকার এ অভিযোগ করার জন্য সবার আগে বক্তাকে জানতে হবে সে কি ধরনের অভিযোগ করতে চাচ্ছেন। সেই অনুযায়ী অভিযোগ পূরণের ঘর পূরণ করতে হবে। ভোক্তা অধিকার অভিযোগ করার নিয়ম গুলোর মধ্যে আরেকটি বিষয় হলো এখানে ভক্তকে তার স্থায়ী ঠিকানা সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য দিতে হবে। 

এবং অভিযোগের স্বপক্ষে কোন প্রমাণ থাকলে তা পেশ করতে হবে। এখানে ভিডিও এবং অডিও ক্লিপ আপলোড করার সুযোগ রয়েছে। তবে এসব তথ্যপ্রবণতা দিয়ে শুধুমাত্র অভিযোগটি জোরদার করার জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। প্রমাণাদি পেশ করার কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

ভোক্তা অধিকার অভিযোগ করার নিয়ম online

ভোক্তা অধিকার অভিযোগ online করার সময় আপনি কয়েকটি পদ্ধতিতে করতে পারবেন। সিসিএমএস এর মাধ্যমে যদি অভিযোগ করতে চান তাহলে মোবাইল নাম্বার এবং ওটিপির প্রয়োজন হবে। এবং ভোক্তার অভিযোগ এর অগ্রগতি তিনি তার মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জানতে পারবেন। তবে নতুন ওয়েব পোর্টালে একটি প্রোফাইল খোলা আবশ্যক।

ভোক্তা অধিদপ্তরের প্রোফাইল খুলবেন কিভাবে

ভোক্তা অধিদপ্তর প্রোফাইল খোলার জন্য নিম্নলিখিত দিকনির্দেশনা মেনে চলুন:

  • http://www.dncrp.com/ প্রথমে এই ওয়েব পোর্টালে ঢুকতে হবে।
  • এই পর্যায়ে আপনার সামনে ভোক্তা অধিকার অভিযোগ করার ইন্টারফেস আসবে। যে ইন্টারফেসে “অভিযোগ দায়ের করুন” অপশনটি রয়েছে সেটিতে ক্লিক করুন। আপনি যদি নতুন অভিযোগ দায়ের করতে চান তাহলে এটা আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
  • আপনার বর্তমানে ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারটি প্রবেশ করান।
  • যে মোবাইল নাম্বারটা প্রবেশ করাবেন সেখানে ওয়েব পোর্টাল থেকে একটি ওটিপি পাঠানো হবে।
  •  ওটিপি বসানোর পর এই পর্যায়ে বক্তার নাম জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার পাসপোর্ট এর নাম্বার উল্লেখ করতে হবে।
  • এখানে পরবর্তীতে আরেকবার মোবাইল নাম্বার প্রবেশ করাতে হবে।
  • এ পর্যায়ে ভোক্তার বাবা মায়ের নাম, পেশা ইত্যাদি উল্লেখ করতে হবে।
  • email address যদি থেকে থাকে তা প্রবেশ করান। এবং সর্বশেষ ধাপে স্থায়ী এবং বর্তমান ঠিকানার তথ্য যোগ করুন।

এই পর্যায়ে আপনার প্রোফাইলটি সম্পূর্ণ হবে এবং এই প্রোফাইলে আপনি অভিযোগ করতে পারবেন।

ভোক্তা অধিকার আইন

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ সালে যখন পাস করা হয় তখন ইন্টারনেটের চল বর্তমান সময়ের মতো ছিল না। কিন্তু এখন ইন্টারনেটে চল বেড়ে গেলে ও ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন অথচ প্রতিকার পাচ্ছেন না।

 ই কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রসারিত হওয়ার ফলে বর্তমানে এই অপরাধের পরিমাণ আরো বেড়ে যাচ্ছে। ভোক্তা অধিকার আইন এ কয়েকটি বিষয়ের উপর নজর দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো: 

  • প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ না করা,
  • পণ্যের ওজন এবং পরিমাপ করার সময় গাফিলতি,
  • নকল পূর্ণ প্রস্তুত কর অথবা মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে বিক্রি করা,
  • ভেজাল এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয়,
  • উৎপাদন খরচ থেকে কয়েকগুণ অধিক মূল্যে পূর্ণ বিক্রয় করা,
  • অতিরিক্ত পণ্য মজুদ করা,
  • সেবার তালিকা সংরক্ষণ না করা,
  • পন্যের মোড়ক ব্যবহার না করা,
  • পণ্যের প্রতি অবহেলা ইত্যাদি।

আইন থাকলেও ভোক্তারা তাদের অভিযোগ সব সময় জানাতে পারেন না। কারণ বাংলাদেশের প্রায় অনেক জেলাতেই ভোক্তা অধিদপ্তর নাই। ফলে অভিযোগ যে বক্তারা কার কাছে জানাবেন এটাই তারা বুঝতে পারেন না।

শেষ কথা

ভোক্তা অধিদপ্তর অভিযোগ করতে পারা প্রত্যেক ভোক্তার  অধিকার। তবে প্রত্যেকে যাতে সুষ্ঠুভাবে এবং সঠিক নিয়মে অভিযোগ জানাতে পারে তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এক্ষেত্রে প্রতিটি জেলায় ভোক্তা অধিদপ্তর এর অফিস থাকা জরুরি। এই অধিদপ্তর ঠিক ভাবে কাজ করলে আমাদের দেশ খুব দ্রুত উন্নত হবে।

এবং অভিযোগ জানানোর পর তারা যেন নিরাপদে থাকতে পারে এটি নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ভোক্তা অধিকার অভিযোগ করার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি আর্টিকেলটি আপনাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১)ভোক্তা অধিদপ্তরের নাম্বার কত?

উত্তর:  Hotline: 16121.

২)জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চালু হয় কবে?

উত্তর: ২০০৯ সালে সর্বপ্রথম চালু হয়।

৩)ভোক্তাদের অধিকারসমূহ কি কি?

উত্তর: ভোক্তাদের প্রধান অধিকার গুলো হল : অভিযোগ প্রদানের অধিকার, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার, পছন্দ প্রকাশের অধিকার, নিরাপত্তার অধিকার।

৪)ভোক্তা অধিকার আইন ২০১৫ এর মেয়াদ কত বছর?

উত্তর: পণ্য কেনার ৩০ দিন পর্যন্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top