Chorabali Logo
স্বাস্থ্য

মামস এর লক্ষণ ও সঠিক চিকিৎসা

মাম্পস এর ঘরোয়া চিকিৎসা

মামস এর লক্ষণ হল গলা ফুলে যাওয়া। এর সাথে জ্বর ও মাথাব্যথা। কানের নিচ থেকে গলা পর্যন্ত ফুলে যায় ফলে খাবার গিলতে ব্যথা অনুভূত হয়।  মূলত চোয়ালের উপরের দুই পাশে লালাগ্রন্থি ফুলে যায়।  মামস সাধারণত ভাইরাসজনিত একটি রোগ। যা আমাদের গলার লালাগ্রন্থিকে আক্রমণ করে।  এটি সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ।  সাধারণত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস একজন থেকে অন্যজনের দেহে ছড়ায়। এটি  জটিল কোন রোগ না তবে অবহেলার কারণে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

মাম্পস প্যারামিক্সো ভাইরাস ফ্যামিলির ভাইরাসের কারণে হয়। রোগীর হাঁচি-কাশির ফলে বাতাসের মাধ্যমে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে। এছাড়াও আক্রান্ত রোগীর ব্যবহার করা জিনিসপত্র থেকেও এই রোগটি ছড়াতে পারে।  

মামস এর লক্ষণগুলো 

  • প্রধান লক্ষণ– জ্বর, মাথা ব্যথা, গলা ব্যথা, অবসাদ ও ক্ষুধামান্দ্য। 
  • শরীরে প্রবেশের ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রকাশ পায় । 
  • কানের নিচ থেকে গলা পর্যন্ত ফুলে যায়। গলা ফুলতে ৪৮ ঘণ্টা বা ২ দিন সময় লাগে। 
  • সাধারণত প্রথমে গলার বাম পাশে ফোলে । তারপর উভয় পাশে ফুলে যায়। 
  • এই রোগে আক্রান্ত ১০০% মানুষের গলা ফুলে।  এর মধ্যে ৯০% মানুষের উভয় গলা ফুলে যায়। ১০% মানুষের শুধুমাত্র বাম পাশের গলা ফুলে। 
  • ১০ দিন পর্যন্ত এই ফোলা স্থায়ী হতে পারে।
  •  অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মামস এর লক্ষণ টের পাওয়া যায় না।  তবে এমন রোগীর সংখ্যা খুবই সামান্য।
  • এই রোগে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়।  তবে প্রাপ্তবয়স্করা আক্রান্ত হলে সেটা বেশি জটিলতা তৈরি করে। 

মামস কখন ও কাদের হয়? 

শীতকালে এটি সাধারণত শিশু ও কিশোর বয়সে বেশি দেখা যায়।  তবে প্রাপ্তবয়স্ক বা বৃদ্ধদেরও হতে পারে।  বসন্তের শুরু অথবা শীতের শেষের দিকে এই ভাইরাস বেশি সক্রিয় হয়। মামস এর  লক্ষণগুলো এই সময় বেশি লক্ষণ করা যায়।  

  1. শিশুদের বেশি হয়।
  2.  প্রাপ্তবয়স্কদের খুব কম হয়।
  3.  বয়স্ক মানুষের খুবই সামান্য । 
  4. শীতকালে বেশি হয়।

মামস এর জন্য সরকারি ভাবে বিশেষ টিকার ব্যবস্থা আছে।  যা একটি শিশুকে শিশুকালে প্রদান করা হয়। 

মামস এর ভ্যাকসিনের নাম হল মামস ভ্যাকসিন বা রুবেলা ভ্যাকসিন।  বর্তমানে এই ভ্যাকসিনের কারণে এই রোগের রোগীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। .

চিকিৎসা

এই ভাইরাসের জন্য সরাসরি নির্দিষ্ট কোন এন্টিভাইরাস আবিষ্কার করা হয়নি।  এক কথায় এন্টিভাইরাসে প্রয়োজন হয় না। কারণ এই রোগ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এমনি ঠিক হয়ে যায়।  সাধারণত মামস এর লক্ষণ দেখা দেওয়ার ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে এই রোগ ভালো হয়ে যায়। 

এই ভাইরাসের কারণে রোগীর যদি অন্য কোন জটিলতা সৃষ্টি হয় তবে সে জটিলতা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারে। 

যদি শরীর ব্যথা, মাথা ব্যথা,  গলা ব্যথা এবং জ্বর আসে সেক্ষেত্রে এই রোগ গুলোর চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।  

  1. মামস এর লক্ষণ-জ্বর অথবা মাথা ব্যাথা হলে প্যারাসিটামল সেবন করতে পারেন। 
  2.  গলা ফোলার জন্য গরম অথবা ঠান্ডা চেক নিতে পারেন। 
  3.  তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।  যে সকল খাবার চিবানোর প্রয়োজন নেই, এমন খাবার এড়িয়ে চলুন ।
  4.  সংক্রমণ ছড়ানো এড়াতে অন্যদের থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। 
  5. যদি মামস এর বাথ্যা ও ফোলা অনেক বেশি হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

প্রতিরোধ বা পূর্ব প্রস্তুতি 

মামস এর নির্দিষ্ট টিকা রয়েছে মিজেলস, মাম্পস ও রুবেলা।  এই টিকা গ্রহণের ফলে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।  তখন মামস এর লক্ষণ গুলো দেখা যায় না অথবা এই রোগ কম হয়।  আমাদের দেশের প্রতিটি শিশুকে দুই ডোজ টিকা প্রদান করা হয়। 

  1. প্রথম ডোজ – ১২  থেকে ১৫ মাসে। 
  2. দ্বিতীয় ডোজ- ৪ থেকে ৬ বছর বয়সে।  

 লক্ষ্য রাখবেন, আপনার শিশুটি যেন এই টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়।  বার থেকে পনের মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং  দ্বিতীয় ডোজটি চার থেকে ছয় বছর বয়সে দেওয়া হয়।  

এই রোগে আক্রান্ত রোগী থেকে আপনার শিশুকে দূরে রাখুন । রোগীকেও সতর্কতার সহিত চলাফেরা করতে হবে । হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই  রোগ বেশি ছড়ায়। 

বড়দের মামস হলে করণীয়

আগেই বলেছি মামসের কোন এন্টিবায়োটিক নেই।  বড়দের ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে এটি ঠিক হয়ে যায়।  তবে মামসের ফলে যদি গলা ব্যথা, গা ব্যথা এবং জ্বর আসে তাহলে এই রোগ গুলোর চিকিৎসা নিতে পারেন। জ্বরের কারণে প্যারাসিটামল খেতে পারে।  

মামস হলে করণীয় 

ছোট এবং বড় সবার ক্ষেত্রে একই করণীয় সেটা হল অপেক্ষা করা।  অন্যদের থেকে দূরে থাকতে হবে কারণ এটি ছোঁয়াচে রোগ।  আপনার হাসি বা কাসীর মাধ্যমে এই রোগটি ছড়ায়।  মামসের কারণে জ্বর আসলে প্যারাসিটামল অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে পারেন।  

মাম্পস এর ঘরোয়া চিকিৎসা

গলা ব্যথা, জ্বর অথবা মাথা ব্যথার জন্য আপনি চিকিৎসা নিতে পারেন।  সে ক্ষেত্রে ঘরোয়া পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করা ভাল।  জ্বর আসলে ঠান্ডা পানি দিয়ে সম্পূর্ণ শরীর  মুছতে পারেন। গলায় ঠান্ডা অথবা গরম সেক নিতে পারেন। তরল জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। 

বাচ্চাদের মামস হলে কি করনীয়

বাচ্চাদের মামস এর লক্ষণ দেখা দিলে একই নিয়ম মেনে চলতে হবে। মামসের কারণে যে সমস্যাগুলো দেখা দিবে,  সেই সমস্যাগুলোর চিকিৎসা দিতে পারে। কারণ মামসের নির্দিষ্ট কোন এন্টিবায়োটিক নেই।  তবে এই রোগের টিকা রয়েছে।  যা শিশুদের ১২ থেকে ১৫ মাস এবং ৪ থেকে ৬ বছরের মধ্যে দুইটি ডোজ দেওয়া হয়। এই টিকার ফলে শিশুদের মামস হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। আপনার কাছের স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে এই টিকা আপনার শিশুকে দিতে হবে। বড়দের জন্য কোন টিকা নেই। 

মামস এর লক্ষণ

মাম্পস কতদিন থাকে?

শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মামস ১০ থেকে ১২ দিন স্থায়ী হয়।  এই ভাইরাসটি মানুষের শরীরে প্রবেশের ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রকাশ পায়।  

আপনার অথবা আপনার পরিচিত কারো মামস এর লক্ষণ দেখা দিলে ভয় বা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। মামস অতিতে আমাদের দেশে খুব ভয়াবহ রুপ নিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে মিজেলস, মাম্পস, রুবেলার ভ্যাকসিনের কারণে এই রোগের রোগীর সংখ্যা খুব কম। আক্রান্ত রোগী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে নিজে থেকেই সুস্থ্য হয়ে যায়। 

Mahedi

পেশায় একজন চাকরিজীবী আমি। লেখালিখির শখ অনেক আগে থেকেই। এই শখকে পুজি করে মানুষের মাঝে জ্ঞান বিতরণের সামান্য চেষ্টা আমার। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালিখি করতে বেশি পছন্দ করি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close