Chorabali Logo

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভাইভা প্রশ্ন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সাধারণ জ্ঞান

প্রাচীনকালে বাংলাদেশ নামে কোন স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল না বরং বর্তমান বাংলাদেশ তৎকালীন সময়ে পশ্চিম পাকিস্তানের অংশ ছিল এবং এটি পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত ছিল। পশ্চিম পাকিস্তানে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষ ছিল স্বাধীন মানুষ অপরদিকে পূর্ব পাকিস্তানে যারা বসবাস করত তারা ছিল পরাধীন। তাদের নিজস্ব কোন মতবাদ কিংবা স্বাধীনতার অধিকার ছিল না। মূলত তারা মানবেতর জীবনযাপন করত। তবে পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিটি মানুষের ঐক্যবদ্ধ মানুষ। তারা তাদের অধিকার আদায়ের দাবিতে সংগ্রাম চালিয়ে ছিল এবং অবশেষে অন্যান্য সংগ্রামের মত একটি বড় আন্দোলনে নেমেছিল যার ফলস্বরূপ মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। এটি 1971 সালে সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে জয়লাভ করার মাধ্যমে বাঙালির ভাগ্য খুলে গিয়েছিল বাঙালি লাভ করেছিল লাল সবুজ বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে মূলত বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা বসবাস করার সুযোগ পাচ্ছি। তাইতো মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আমাদের সকলের জেনে রাখা আবশ্যক। এমনকি অনেক চাকুরীর ভাইবা পরীক্ষাগুলোতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাধারণ জ্ঞান আছে কিনা যাচাই-বাছাই করা হয়। তাই আজকের আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভাইভা প্রশ্ন এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নগুলো আপনাদের মাঝে তুলে ধরব।

প্রাচীনকাল থেকে বাঙালি জাতি ছিল সংগ্রামী জাতি এবং ঐক্যবদ্ধ জাতি। তাদের সংগ্রামের কিংবা ঐক্যবদ্ধতার পরিচয় বিভিন্ন আন্দোলন এ জয়লাভ করার মাধ্যমে ফুটে ওঠে। কেননা বাঙালি জাতি বিভিন্ন ধরনের আন্দোলনে জয়লাভ করেছিল তারা মূলত ভাষার জন্য আন্দোলন করেছিল এমনকি তাদের অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য তারা মুক্তিযোদ্ধারা নামক নয় মাসের একটি রক্ত হয়ে যুদ্ধে লড়াই চালিয়েছিল। এই যুদ্ধে ৩০ লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে অবশেষে বাঙালি জাতি পাকিস্তানি সৈন্যদের কাছে তাদের জয় অর্জন করতে সক্ষম হয়। পাকিস্তানি সৈন্যরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ও অস্ত্রের দিক থেকে বাঙ্গালীদের সে অনেক শক্তিশালী ছিল। এরপরেও তারা বাঙ্গালীদের কাছে পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য হয় কেননা বাঙালি জাতি তাদের ঐক্যবদ্ধতা ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমেই মুক্তিযোদ্ধা নামক বড় সংগ্রামে জয় লাভ করে। তাইতো বাঙালির ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ একটি বিরাট জায়গা দখল করে আছে। এই যুদ্ধের পটভূমি ইতিহাস ও ঐতিহ্য প্রতিটি মানুষকে জেনে রাখা আবশ্যক কেননা বর্তমান সময়ে আমরা যে স্বাধীন সোনার বাংলাদেশে বসবাস করছি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেই তা সম্ভব হয়েছে। মূলত স্বাধীন সোনার বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের এই ফসল। তাই সকলের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভাইভা প্রশ্ন

বাঙালি জাতির ইতিহাস একটি বৃহত্তম যুদ্ধের নাম হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ। এই যুদ্ধটি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সংগঠিত হয়েছিল। এই যুদ্ধের পিছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। তাইতো বাংলাদেশে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের উচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সকল বিষয় সম্পর্কে জেনে রাখা। অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের চাকরির পরীক্ষাতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রশ্ন করা হয় কেননা বাংলাদেশ এ বসবাসকারী মানুষ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে ধারনা আছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করা হয়। তাই আজকে আমরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভাইভা প্রশ্নগুলো আপনাদের উদ্দেশ্যে নিয়ে এসেছি। আপনারা আমাদের এই প্রশ্নগুলোর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কি ধরনের প্রশ্ন ভাইভা বোর্ডে করা হয় সে সম্পর্কে জেনে নিতে পারবেন। নিচে ভাইভা প্রশ্নগুলো তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন : স্বাধীনতা যুদ্ধে কত জন বীরউত্তম খেতাব লাভ করেন?

উত্তর : ৬৭ জন ( আগে ছিল ৬৮)

প্রশ্ন : স্বাধীনতা যুদ্ধে কত জন বীর বিক্রম উপাধি লাভ করে?

উত্তর : ১৭৪জন। (আগে ছিল ১৭৫)

প্রশ্ন : স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্তির সংখ্যা কত?

উত্তর : ৪২৪জন।( আগে ছিল ৪২৬)

প্রশ্ন : স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য মোট কতজন খেতাব প্রাপ্ত হন?

উত্তর : ৬৭২ জন। ( আগে ছিল ৬৭৬ জন। মোট ৪ জনের পদ স্থগিত করা হয়েছে।)

প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধের আত্মসমর্পণ দলিল কোথায় স্বাক্ষরিত হয়?

উত্তর : রেসকোর্স ময়দানে।

প্রশ্ন : জেনারেল এ কে নিয়াজী কার নিকট আত্মসমর্পণ করে ?

উত্তর : জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের সাংকেতিক নাম?

উত্তর : অপারেশন সার্চ লাইট

প্রশ্ন : শেখ মজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায় কখন?

উত্তর : ২৫ মার্চ, ১৯৭১ সালে, মধ্যরাতে।

প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধ চলা কালে সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল ?

উত্তর : ১১ টি।

প্রশ্ন : কোন সেক্টরে নিয়মিত কোন সেক্টর কমান্ডার ছিল না ?

উত্তর : ১০ নং সেক্টর।

প্রশ্ন : স্বাধীনতা যুদ্ধে কত জন বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি লাভ করেন?

উত্তর : ৭ জন।

আরো পড়ুন : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ও লেখক

 

প্রশ্ন : আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে কে নেতৃত্ব প্রদান করেন?

উত্তর : বিমান বাহিনীর প্রধান কমোডর এ কে খন্দকার।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এমসিকিউ পড়তে ক্লিক করুন।

প্রশ্ন : কোন বীর শ্রেষ্ঠের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি?

উত্তর : বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন।

প্রশ্ন : কোন বীর শ্রেষ্ঠের কোন খেতাবী কবর নেই?

উত্তর : বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন?

উত্তর : বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান।

প্রশ্ন : প্রথম কোথায় বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়?

উত্তর : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রসভায়।

প্রশ্ন : প্রথম কবে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয ?

উত্তর : ২ ই মার্চ, ১৯৭১।

 

প্রশ্ন : সর্বপ্রথম কবে বাংলাদেশের স্বাধীন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়?

উত্তর : ১০ এপ্রিল, ১৯৭১।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার কবে গঠিত হয়েছিল?

উত্তর : ১০ এপ্রিল, ১৯৭১।

প্রশ্ন : বাংলাদেশকে প্রজাতন্ত্র ঘোষনা করা হয়েছিল কবে?

উত্তর : ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার কবে শপথ গ্রহন করেছিল?

উত্তর : ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের সদস্য সংখ্যা কত ছিল?

উত্তর : ৬ জন।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের রাজধানী কোথায় ছিল?

উত্তর : মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে।

প্রশ্ন : মুজিবনগরের পুরাতন নাম কি ছিল?

উত্তর : বৈদ্যনাথ তলার ভবের পাড়া।

প্রশ্ন : কে বৈদ্যনাথ তলার নাম মুজিব নগর রাখেন?

উত্তর : তাজউদ্দিন আহম্মেদ।

প্রশ্ন : মুজিনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন কে?

উত্তর : এম, মনসুর আলী।

 

প্রশ্ন : বাংলাদেশের পতাকা কে প্রথম উত্তোলন করেন?

উত্তর : আ স ম আব্দুর রব।

প্রশ্ন : কবে, কোথায় স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা হয়?

উত্তর : ৩ মার্চ, ১৯৭১, পল্টন ময়দানে।

প্রশ্ন : চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করা হয় ?

উত্তর : ২৬ মার্চ, ১৯৭১।

প্রশ্ন : স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র কবে, কোথায় স্থাপন করা হয়?

উত্তর : চট্টগ্রামের কালুরঘাটে, ২৬ মার্চ, ১৯৭১।

প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন কারা?

উত্তর : ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।

প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ কবে, কোথায় সংগঠিত হয়?

উত্তর : ১৯ মার্চ, ১৯৭১ গাজিপুরে।

প্রশ্ন : শেখ মুজিব কত তারিখে পাকিস্তানের কারাগার হতে মুক্তিলাভ করেন ?

উত্তর :০৮ জানুয়ারী ১৯৭২।

প্রশ্ন : এ দেশের মাটি চাই, মানুষ নয়। এ উক্তি কার?

উত্তর : জেনারেল ইয়াহিয়া খান।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সাধারণ জ্ঞান

বাঙালির ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তাইতো বাঙালি জাতি হিসেবে এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের উচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সকল ধরনের প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা রাখা। তাইতো অনেকেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সাধারণ জ্ঞানের বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন খুঁজে থাকেন তাদের উদ্দেশ্যে আজকের আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সকল ধরনের সাধারণ প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে। আপনারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সাধারণ জ্ঞানের এই প্রশ্নগুলো সংগ্রহ করার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে জেনে নিতে পারবেন ও সকলকে জানাতে পারবেন। নিচে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সাধারণ জ্ঞানের সকল প্রশ্ন তুলে ধরা হলো;

১. বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি তথা জাতির জনকের নাম কী?
উঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
২. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা কোন সেক্টরের অধীনে ছিলো?
উত্তরঃ দুই নম্বর সেক্টর
৩. অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনাকারী কে ছিল?
উত্তর : ইয়াহিয়া খান
৪. সর্ব কনিষ্ঠ খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধার নাম কী?
উঃ শহীদুল ইসলাম (বীর প্রতীক ১২ বছর)
৫. ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত লোকসংক্ষা কত ছিলো?
উত্তরঃ প্রায় দশ লক্ষ
৬.মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান কে?
উত্তরঃ এম. মনসুর আলি।
৭. সরকারিভাবে নিয়মিত বাহিনির নাম কী ছিলো?
উত্তরঃ এম. এফ
৮.রাজাকার বাহিনি গঠন করেন কে?
উত্তরঃ মওলানা এ কে এম ইউসুফ
৯.১৯৭১ এ ভারতীয় বিমান ঘাটিতে পাকিস্তান বোমা হামলা চালায় কবে?
উত্তরঃ ৩রা নভেম্বর
১০. মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর ঢাকার কোন এলাকায় অবস্থিত?
উত্তরঃ সেগুনবাগিচা
১১. কোন নেতা নির্বাচিত দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর বানচাল করতে ইয়াহিয়া খানের সাথে ষড়যন্ত্র করেন?
উত্তরঃ জুলফিকার আলী ভুট্ট
১২. মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি কে নিযুক্ত হন?
উত্তর: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
১৩. মুক্তিবাহিনী কবে গঠিত হয়?
উত্তর: ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই
১৪. মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
উত্তর: ১১টি সেক্টরে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top