Chorabali Logo
স্বাস্থ্য

রমজানের সময়সূচি ২০২৪ ইসলামিক ফাউণ্ডেশন 

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে রমজান মাস খুবই ফজিলতের মাস। কারন এই মাসে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিলো। রমজান হলো ইসলামী বর্ষ পঞ্জিকা অনুসারে নবম মাস। রমজানের সময়সূচি ২০২৪ সম্পর্কে প্রকাশিত আমিরাতের মহাকাশ গবেষণা ও জ্যোতির্বিদ্যাবিষয়ক সংস্থা “আমিরাতস এস্ট্রোনোমি সোসাইটি” কতৃক ঘোষিত হয়েছে যে,  ২০২৪ সালের  আরবি বছরের পরবর্তী মাস ‘রবিউল আউয়াল’ শুরু হতে পারে ১৬ সেপ্টেম্বর। সেই হিসাবে রমজান মাস শুরু হবে ২০২৪ সালের মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে। 

আগামী ১১ মার্চ তারিখ থেকে শুরু হবে ২০২৪ সালের রমজান মাস। ৩০টি অথবা ২৯টি রোজা পালিত হবে। এছাড়া রমজানের সময়সূচি ২০২৪ ইসলামিক ফাউণ্ডেশনে ইতোমধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের রমজানের ইফতার ও সেহেরির সময়সূচি প্রকাশিত হয়েছে এবং সেখানেও মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে রমজানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে ১০ এপ্রিল।

 

 

রোজা কি?

রোজা শব্দটি ফারসি , এর আরবী হলো সাওম। সাওম শব্দের অর্থ বিরত থাকা। রমজানের সময়সূচি ২০২৪ ইসলামিক ফাউণ্ডেশন অনুযায়ী,  সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য , পানীয় ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকাই সাওম। সাওম বা সিয়াম হলো প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম নর-নারী সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বাধ্যতা মূলক ভাবে পানাহার ও স্ত্রী সহবাস এবং অশ্লীল, গর্হিত প্রভৃতি কাজকর্ম, কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা।

রমজানের সময়সূচি ২০২৪ ইসলামিক ফাউণ্ডেশন  অনুযায়ী, রোজা কিভাবে নির্ধারন করা হয়? 

রমজান ইসলামিক চন্দ্র ক্যালেন্ডার দ্বারা নির্ধারিত হয়, যা অর্ধচন্দ্রাকার চাঁদ দেখা দিয়ে শুরু হয় । সৌদি আরব এবং অন্যান্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলি মাসের শুরু নির্ধারণের জন্য চাঁদ দেখার সাক্ষ্যের উপর নির্ভর করে এবং এই প্রকিয়াতেই রমজান নির্ধারন করা হয়। রমজান মাসের রোজা মানুষকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্তি দেয়,মানুষের কুপ্রবৃত্তি ধুয়ে মুছে দেয় এবং আত্মাকে দহন করে ঈমানের শাখা প্রশাখা সঞ্জিবীত করে। সর্বোপরি মহান আল্লাহ তায়া’লার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। 

রমজানের ইতিহাস 

রমজানের ইতিহাস নিয়ে অনেক জায়গায় অনেক রকম ব্যাখ্যা থাকলেও রমজানের সময়সূচি ২০২৪ ইসলামিক ফাউণ্ডেশন কতৃক প্রকাশিত একটি পূর্ণ বিবৃতিতে রমজানের ইতিহাস সম্পর্কে বলা হয়েছে যে,  ইসলামের নবী নিজে মাঝে মাঝে রোজা রাখলেও শুরুর দিকে উম্মত বা সাহাবীদের জন্য, বিশ্বাসীদের জন্য ৩০ রোজা রাখার বিষয়টি বাধ্যতামূলক ছিল না। ইসলামে রোজা বা রমজান ফরজ হিসাবে বাধ্যতামূলক করা হয় হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে। এরপর থেকেই অপরিবর্তিত রূপে সারা পৃথিবীতে রোজা পালন করা হচ্ছে। যে বছর রোজা ফরজ করা হয়েছিল, তার দুই বছর আগে ৬২২ খৃষ্টাব্দে মক্কা থেকে সাহাবীদের নিয়ে মদিনায় হিজরত করেন ইসলামের নবী। হিজরতের তারিখ থেকে মুসলিমদের হিজরি সাল গণনা শুরু করা হয়।

হিজরি দ্বিতীয় বছরে রমজান মাসে রোজা রাখা বাধ্যতামূলক বা ফরজ ঘোষণা করে আয়াত নাজিল হয়। হযরত আদম (আ.) এর সময় থেকে রোজার প্রচলন শুরু হয়। তার পরবর্তী যুগে হজরত নূহ (আ.) এই রোজা রাখতেন। হজরত ইবরাহিম (আ.) ও রোজা রাখতেন। এ ব্যাপারে হাদিসে নববিতেও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পাওয়া যায়। হজরত মুসা (আ.) যখন তুর পাহাড়ে আল্লাহ তাআলার সাথে কথোপকথনে গমন করেন, তখন তিনি ৪০ দিন রোজা রাখেন। হজরত দাউদ (আ.) কে আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার রাজত্বও দিয়েছিলেন। আবার নবুয়তও দিয়েছিলেন। তিনি একদিন রোজা রাখতেন, একদিন ইফতার করতেন। বছরে ছয় মাস রোজা রাখতেন। হাদিসে নববিতে একে রোজা রাখার উত্তম পদ্ধতি বলা হয়েছে।

 মিশরে রমজানের গুরুত্ব

 বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই মাহে রমজান পালন করে থাকে বিভিন্ন রীতিতে, বিভিন্ন ঐতিহ্যে। যেমন ফেরাউনের দেশ মিশর। সেই সঙ্গে অসংখ্য নবী-রাসুল সাহাবা ওলি-আউলিয়ার দেশও মিশর। বিশ্বের প্রাচীন কৃষ্টি সভ্যতা সমৃদ্ধ এই দেশটিতে রমজান শুরু হয় বেশ ধূমধাম আয়োজনে। রমজান উপলক্ষে ফানুস দিয়ে ঘর সাজানো, রাস্তা আলোকিত করা মিশরীয়দের বহু পুরনো একটি ঐতিহ্য।এছাড়া পবিত্র মাহে রমজানে দেশটিতে বিভিন্ন ধরনের আলোক শয্যার ব্যবস্থাও করা হয়ে থাকে। সভ্যতার আদিকাল থেকেই এ জাতির রমজানের রোজা পালনের রীতি খুবই চমৎকার।

যেমন জমকালো তাদের সব সৃষ্টি ও নিদর্শন, তেমনি জমকালোভাবে বাতি জ্বালিয়ে তারা রমজান উদযাপন করেন ।এছাড়া পবিত্র মাহে রমজানে দেশটিতে বিভিন্ন ধরনের আলোক শয্যার ব্যবস্থাও করা হয়ে থাকে। সভ্যতার আদিকাল থেকেই এ জাতির রমজানের রোজা পালনের রীতি খুবই চমৎকার। যেমন জমকালো তাদের সব কৃষ্টি ও নিদর্শন, সেরকমই জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে তারা রজমান মাস পালন করেন।

পরিশেষে 

রমজানের সময়সূচি ২০২৪ ইসলামিক ফাউণ্ডেশনে রমজানের গুরুত্ব বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া বলা হয়েছে,  আরবি মাসসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ মাস। এ মাসের গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য অপরিসীম। দুনিয়ার কোনো সম্পদের সঙ্গে আল্লাহর এ অনুগ্রহের তুলনা চলে না। রমজানের আগমনে বিশ্বনবি অনেক আনন্দিত হতেন।  এই মাস ক্ষমা ও সৌহার্দ্যের মাস। তাই এই মাসটির সঠিক ও সম্মানের সহিত ব্যবহার করে আমিরাতের জীবনের সফলতা খোঁজা প্রত্যেক মুমিন  ও মুসলিমের দায়িত্ব।

Mahedi

পেশায় একজন চাকরিজীবী আমি। লেখালিখির শখ অনেক আগে থেকেই। এই শখকে পুজি করে মানুষের মাঝে জ্ঞান বিতরণের সামান্য চেষ্টা আমার। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালিখি করতে বেশি পছন্দ করি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close