Chorabali Logo

সুয়েজ খাল কোথায় অবস্থিত ও বিস্তারিত 2024

১০ বছর ধরে খনন কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর ১৮৬৯ সালে এই খালটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। বাণিজ্যিক বিভিন্ন সুবিধার জন্য সুয়েজ খাল খনন করা হয় এবং ১৯৫৬ সালের এই খালটি জাতীয়করণ করা হয়।

 ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ৪০ টি জাহাজ ডুবিয়ে ইচ্ছা করে খালটি আট বছর বন্ধ করে রাখা হয়। আরব এবং ইসরাইলের যুদ্ধের পর মিশর সুইচ খাল বন্ধ রাখে। উত্তর দিক থেকে সুয়েজ খাল প্রবেশের চ্যানেলের দৈর্ঘ্য ১৬২.২৫ কিলোমিটার। 

এবং দক্ষিণ দিক থেকে সুয়েজ খাল প্রবেশের চ্যানেলের দৈর্ঘ্য ৯ কিলোমিটার, যা একটি এক লেন বিশিষ্ট খাল। খনন কাজ শেষ হওয়ার পর এই খালটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৬৪ কিলোমিটার। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন রকমের সংস্কারের পর খালটির দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ১৯০.৩। 

এই সময় খালটির গভীরতা হয় ২৪ মিটার। যা শুরুর দিকে ছিল ৮ মিটার এর মত। চলুন তাহলে সুয়েজ খাল নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া যাক

সুয়েজ খালে প্রতিদিন কতটি জাহাজ চলাচল করে

২০২২ সালের শেষ তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন এই খালের উপর দিয়ে জাহাজ চলাচল করে প্রায় ৬৮ থেকে ৭০ টি। যার গড় হিসাব করলে প্রতিবছর সুয়েজ খালের উপর দিয়ে জাহাজ চলাচল করে ২৩,৮৫১ টি। 

জাহাজগুলো ফ্লেক্সপোর্টের সাউথ ওয়েস্ট থেকে বেশিরভাগ সময় ছেড়ে যায়। এবং এখান থেকে চলাচল কৃত জাহাজগুলোর হিসাব সংরক্ষণ করেন সুয়েজ ক্যানেল অথরিটি। জাহাজগুলো সরাসরি ভূমধ্যসাগর হয়ে আটলান্টিক হয়ে ভারত মহাসাগরে সরাসরি ঢুকতে পারে। 

যার ফলে পরিবহন খরচ এবং সময় দুটোই বেঁচে যায়। এতে করে যাত্রা দূরত্ব কমে যায় প্রায় ৫৫০০ মাইল। এতে করে‌ প্রতিটি যাত্রায় জাহাজগুলোর ৮ দিন করে সময় বেঁচে যায়।

খালের ছবি


সুয়েজ খাল
সুয়েজ খাল

সুয়েজ খাল জাতীয়করণ কবে করা হয়

মিশরীয় সরকারের একান্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে সুয়েজ খাল খনন করা হয়েছিল। এই খালটি ১৯৫৬ সালে জাতীয়করণ করা হয়েছিল কোম্পানির মালিকানা দাবির মাধ্যমে। তবে যখন থেকে মিশরীয় রাষ্ট্রপতি খালটি জাতীয়করণ ঘোষণা করেন তখন থেকেই নানা বিবাদ চলছিল। 

এবং এই বিবাদ পরবর্তীতে সুয়েজ সংকট এর রূপ নিয়েছিল। প্রথমদিকে ব্রিটিশরা এবং ফরাসিরা এই খালটির মালিকানায় থেকে রক্ষণাবেক্ষণ করত। কিন্তু পরবর্তীতে মিশরের রাষ্ট্রপতি জাতীয়করণ ঘোষণা করেন। ফলে ওই বছরেই সুয়েজ সংকট দেখা যায়।

আরও>> বাংলালিংক বন্ধ সিমের অফার ২০২৪  

কোন দেশে অবস্থিত

সুয়েজ খাল টি মিশরের সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিম দিকে অবস্থিত। মানুষের দ্বারা এই খালটি সৃষ্টি করা হয়েছে বলে এই খালের অন্য নাম “মানব সৃষ্ট কৃত্রিম জলাধার”। এই খালটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভূমধ্যসাগর এবং লোহিত সাগর একত্রিত হয়েছে। এশিয়া এবং আফ্রিকার মাঝখানে এই খালটি অবস্থিত তাই খালটি দুটি মহাদেশকে আলাদা করতে সমর্থিত হয়েছে। 

উপমহাদেশের তিনটি বড় হ্রদ লেক মানজালা, বিটার লেকগুলো এবং তিমসাহ কেও একত্রিত করেছে এই খালটি। ফলে ইউরোপ এবং আফ্রিকান জনগণকে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিতে হয় না। মিশরের বন্দর সাঈদ এবং তেউফিক বন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে এই খালের কারণে।

সুয়েজ খালের দৈর্ঘ্য কত

এই খালের খনন কাজ শুরু হয়েছিল পোর্ট সৈয়দের উত্তর টার্মিনাস থেকে। পোর্ট সৈয়দের দক্ষিণ টার্মিনাস পর্যন্ত এর বিস্তৃতি। খালটির দৈর্ঘ্য হল ১৯৩.৩০ কিলোমিটার। এবং খালটির মোট বিস্তৃতি এর পরিমাণ হলো ১২০.১১ মাইল।

শেষ কথা 

বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা করেও এই খাল টি ১৫০ বছরে পদার্পণ করেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নতি আনায় ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই খালের আয়ের পরিমাণ ছিল ৫৯০ কোটি মার্কিন ডলার। খননের পর থেকে জলপথ হিসেবে খালটির ভূমিকা অনস্বীকার্য। 

বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

১) Suez Canal কে খনন করেন কোন কোন দেশে?

উত্তর: ফার্ডিনান্ড ডি লেসপেস সুয়েজ খাল খননের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই খালটির খনন কাজ মিশরে শুরু হয়েছিল।

২) সুয়েজ খালের দৈর্ঘ্য কত কিলোমিটার?

উত্তর: ১৯৩.৩০ কিলোমিটার।

৩) Suez Canal কি মিঠা পানির নাকি লবণাক্ত পানির?

উত্তর: সুয়েজ খালের পানি লবণাক্ত।

৪) Suez Canal খননের ফলে কি কি সুবিধা হয়েছে?

উত্তর: এশিয়ার সাথে জলপথের যাতায়ার সহজ হয়েছ্য ইউরোপের। ৫৫০০ কিলোমিটার যাতায়াতের রাস্তা কমে গিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top